Breaking News

আমলাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লড়াই প্রকাশ্য হচ্ছে

টানা ১২ বছরের বেশি ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও মূল ক্ষমতা

আমলাদের হাতে, এমন কথাবার্তা বলছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাই। সাম্প্রতিক সময়ে আমলাদের

 

বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা সোচ্চার হচ্ছেন এবং তারা মনে করছেন আমলারা সরকারকে ভুল

পথে পরিচালিত করছে। আমলাদের কারণে সরকারের জনপ্রিয়তা নষ্ট হচ্ছে এবং জনবিচ্ছিন্নতা বাড়ছে।

 

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাই মনে করছেন যে এখনই সময় আমলাদের কাছ থেকে সরকারকে

আলাদা করার। আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ

 

টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছেন প্রধানমন্ত্রীর কারিশমা, দক্ষতা এবং বিচক্ষনতার জন্য। প্রধানমন্ত্রী

জনগণের আশা ভরসা কেন্দ্র। অথচ আমলারা এমন ভাব করছেন এবং এমনভাবে আচরণ করছেন যাতে

 

মনে হচ্ছে তারাই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখেছে। আওয়ামী লীগের অন্য একজন নেতা বলেছেন যে,

গত দুই বছরে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব খর্ব হতে হতে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তারা মনে করছেন সব

 

জায়গায় আমলাতন্ত্র কায়েম হয়েছে এবং আমলারাই সবকিছু করছে। গত বছর করোনা সংক্রমনের শুরু

থেকে জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো সচিবদেরকে। এখন আবার নতুন করে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

এটি রাজনীতিবিদদেরকে ক্ষুব্ধ করছে এবং অপমানিত করছে। তারা মনে করছেন যে, আমলারা দায়িত্ব

নিয়ে যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতেন তাহলে সেটিতে কোনো অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। কিন্তু

 

আমলারা এই দায়িত্ব যেমন পালন করতে পারছেন না তেমনি এলাকায় রাজনীতিবিদদেরকে হেয় প্রতিপন্ন

করছেন। এটির ফলে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে বিপর্যয় পড়তে পারেন বলেও তারা মনে

 

করছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, আমলাদের মধ্যে নীরবে মৌলবাদ এবং ধর্মান্ধ গোষ্ঠী

রয়েছে। তাদের কারণেই সরকার হেফাজতের সঙ্গে আপোষ রফা করেছিলো ২০১৩ সালের পর, যার ফল

 

আজকে হেফাজত ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক বিষয়ে আমলারা প্রভাব বিস্তার করছে।

রাজনৈতিক সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমলাদের কারণে। আওয়ামী

 

লীগের নেতারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে একটি নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে এবং

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নই হলো আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান কাজ। কিন্তু আমলারা নানা রকম

 

ইস্যুকে সামনে এনে কার্যত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নই বাধাগ্রস্ত করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী

লীগের সঙ্গে আমলাদের একাধিক বিষয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে হচ্ছে। ১. স্থানীয় প্রশাসনে জনপ্রতিনিধিদের

 

ভূমিকা সংঘটিত হওয়া: জেলা-উপজেলায় এখন আমলারাই চালাচ্ছেন। সেখানে এমপি এবং উপজেলা

চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা সংকুচিত প্রায়। এর ফলে জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক

 

জনপ্রতিনিধিদের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এটি পরবর্তী নির্বাচনে তাদের জন্য নেতিবাচক হবে। বিভিন্ন স্থানে

এখন জেলা প্রশাসক বনাম এমপিদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এটি সরকারের জন্য ক্ষতিকারক

মনে করা হচ্ছে।

 

২. আমলারা জনবিরোধী নীতি এবং কৌশল প্রণয়ন করেছেন: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতাই

মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমলারা এমন কিছু নীতি এবং সিদ্ধান্ত প্রণয়ণ করছেন, যে সিদ্ধান্তগুলো

জনবিরোধী। একজন আওয়ামী লীগের নেতা বলেন যে, লকডাউনের সময় যেভাবে গণপরিবহন বন্ধ করা

 

হলো, গাড়ি চলাচল খোলা রাখা হলো এবং যে সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হলো, তার সবই নিম্ন আয়ের

মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা হয়েছিলো এই সমস্ত সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে। আর এই কারণেই

তারা মনে করেন যে আমলারা তাদের নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সরকারকে এমন সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের

 

জন্য প্রলুব্ধ করছেন যেগুলো গণবিরোধী। ৩. আমলারা ভুল তথ্য দিচ্ছেন: আওয়ামী লীগের নেতারা মনে

করছেন যে, আলারা সরকার প্রধানের কাছে সঠিক বার্তা দিচ্ছেন না, ভুল তথ্য দিচ্ছেন। ভুল তথ্য দিয়ে

 

সরকারকে বিভ্রান্ত করছে। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ মনে করে যে, করোনা মোকাবেলা, জঙ্গি

মোকাবেলা সবকিছুতেই রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সামনে আসা উচিত, আমলাতন্ত্র নয়।

 

 

Check Also

গোটা ভারত,জুড়ে ইঞ্জিনি,য়ারিং ভ,র্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকার শী,র্ষে মুসলিম কিশোরী !

সারা ভারতে একযো,গে অ,নুষ্ঠিত ইঞ্জিনি,য়ারিং ভ,র্তি পরী,ক্ষা জ,য়েন্ট এন,ট্রেন্স এক্সামি,নেশন মেইন (জেইই- মেইন) পরী,ক্ষার ফলাফলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *