আমীর হয়েই টাকা দাবি করেছিলেন বাবুনগরী

জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমীর নির্বাচিত হয়েছিলেন গত বছরের নভেম্বরে। আমীর নির্বাচিত হয়েই তিনি

সরকারের কাছে এক দাবির ফর্দ তৈরি করেছিলেন। এই তালিকায় ব্যক্তিগত চাহিদা যেমন ছিল তেমনি ছিল কওমি

 

মাদ্রাসার জন্য নানারকম সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আবদার। একাধিক সূত্র বলছে যে, জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের

আমীর হিসেবে নিজেকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা চেয়েছিলেন এবং একটি বেশ বড় পরিমাণ এককালীন টাকা দাবি

 

করেছিলেন। এছাড়া তিনি কওমি মাদ্রাসার জন্য একটি তহবিল চেয়েছিলেন। আর কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের

বেতন,মর্যাদা ইত্যাদি সংক্রান্ত কিছু দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেছিলেন। আর এই সমস্ত দাবি-দাওয়া নিয়ে তিনি

 

সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলেও জানা যায়। তবে সরকার এখন করোনাকালীন

সময়ে এসব দাবি-দাওয়াগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি। বরং সরকার জুনায়েদ বাবুনগরীকে আগে পর্যবেক্ষণ করতে

চেয়েছেন যে তার গতি প্রকৃতি কিরকম হয়। আর এ কারণেই জুনায়েদ বাবুনগরী ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে আন্দোলনের

 

পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে। যখন জুনায়েদ বাবুনগরী আন্দোলনের

পরিকল্পনা নেয়, তখন তার পাশে এসে দাঁড়ায় বিএনপি এবং জামায়াত। তারা জুনায়েদ বাবুনগরীর এই ক্ষোভকে

রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন এবং সে কারণেই তারা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নানারকম

 

উপঢৌকন দিয়ে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করেন। জানা গেছে যে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের পর

সরকার হেফাজতের সাথে এক ধরনের সমঝোতায় যায়। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবে হেফাজতের তৎকালীন

 

আমীর আহমদ শফী অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে কওমি মাদ্রাসাকেও

সরকার নানারকম প্রণোদনা এবং সুযোগ সুবিধার আওতায় আনে। তারই অংশ হিসেবে কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি

দেয়া হয়। জুনায়েদ বাবুনগরী পন্থীরা সবসময় মনে করতেন আহমদ শফী সরকারের ঘনিষ্ঠ হয়ে নানা কম সুযোগ

 

-সুবিধা আদায় করছে সরকারের কাছ থেকে। যাতে হেফাজতকে ব্যবহার করেই আহমদ শফী এবং তার পরিবার

বিত্তশালী হয়ে উঠছেন এরকম অভিযোগ জুনায়েদ বাবুনগরী সবসময় করতেন। আর এ কারণেই জুনায়েদ

 

বাবুনগরী হেফাজতের মধ্যে একটি আলাদা মেরুকরণ তৈরি করেন এবং যে মেরুকরণের মাধ্যমে তিনি হেফাজতে

যারা আহমদ শফী বিরোধী তাদেরকে একীভূত করেন। আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতকে রীতিমতো কুক্ষিগত

করেন জুনায়েদ বাবুনগরী। জুনায়েদ বাবুনগরী মনে করেছিলেন যে আহমদ শফী যেভাবে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন

 

ঠিক তেমনিভাবে তিনিও যদি সরকারকে চাপে ফেলতে পারেন তাহলে তিনিও অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আর

এই সমস্ত সুযোগ-সুবিধার জন্যই তিনি একটি চাহিদা তালিকা তৈরি করেছিলেন এবং এই চাহিদা তালিকা সরকারকে

দিয়ে তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন যে আহমদ শফী যেরকম অনেক কিছু পেয়েছেন, তিনিও অনেক কিছু পেতে চান।

 

একাধিক সূত্র বলছে যে, জুনায়েদ বাবুনগরীর যে চাহিদার তালিকা তা এতো অবাস্তব এবং উদ্ভব ছিল যে এটি

অগ্রহণযোগ্য ছিল। আর এ কারণেই জুনায়েদ বাবুনগরীর এই তালিকা সরকার আমলেই নেয়নি। এরপর থেকেই

জুনায়েদ বাবুনগরী জামায়াত, বিএনপি মহলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তারই ফসল হিসেবে তারা বঙ্গবন্ধুর

 

ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতা এবং তারপর শুরু করেন বাংলাদেশে সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসার বিরোধিতা

করা। এসব করে তিনি মনে করেছিলেন যে, একটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা যাবে সরকারের উপর। আর এই চাপ

 

সৃষ্টি করলেই সরকার তাদের দাবি-দাওয়া মেনে নিবে এবং জুনায়েদ বাবুনগরী আহমদ শফীর চেয়েও সরকারের

কাছ থেকে অনেক বেশি কিছু পাবেন। কিন্তু সেই আশা গুড়েবালি হয়ে গেল।

 

 

Check Also

কে এই ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা

ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা আরও বলেন, ‘এই ‘ঘট’না’র নেপথ্যে আরও অনেক কাহিনী আছে। এই মে’য়ে (মুনিয়া) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *