ঈদের নামাজের জামাত বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস ভয়াবহ মহামারী আকার ধারণ করায় পবিত্র মাহে রমজান এবং আসন্ন ঈদ-

উল-ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে থেকে সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করা

 

হয়েছে।একই সাথে শর্তসাপেক্ষে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদের জামাত

আদায়ের অনুমতি দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৬ এপ্রিল) ধর্ম বিষয়ক উপ সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন সাক্ষরিত

 

বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা যায়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে থেকে সতর্কতামূলক নির্দেশনায় বলা হয়, পবিত্র মাহে

রমজান এবং আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সকল-কে শুভেচ্ছা।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ০৪.০৪.২০২১ খ্রি. তারিখের ০৪.০০.০০০০.৫১৪.১৬.০০৩.২০.১১১ নং স্মারক ও ১২.০৪.২০২১

খ্রি. তারিখের ০৪.০০.০০০০.৫১৪.১৬.০০৩.০০.১২০ নং স্মারক মোতাবেক এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের

 

০৫.০৪.২০২১ খ্রি. তারিখের ১৬.০০.০০০০.০০১.২১.০০৩.২০২০.৫১৪ নং স্মারক ও ১২.০৪.২০২১ খ্রি. তারিখের

১৬.০০.০০০০.০০১.২১.০০৩.২০২০.৫১৮ নং স্মারকের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস ভয়াবহ

মহামারী আকার ধারণ করার ক্ষেত্রে যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে

 

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অতি জরুরি। ইতোমধ্যে মসজিদে নামাজ আদায়ে কতিপয় নির্দেশনা জারী করা হয়েছে।

করানো ভাইরাস প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে সারা দেশে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায়

জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাবলিসহ বিশেষ সতর্কতামূলক বিষয়াদি

 

অনুসরণপূর্বক নিম্নবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে ১৪৪২ হিজরি/২০২১ সালের পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামায়াত

আদায়ের জন্য অনুরোধ করা হলো:

১. ইসলামী শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামায়াত আদায়ের ব্যাপারে

 

উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিজনিত

কারণে মুসল্লীদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের

 

জামায়াত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক

জামায়াত অনুষ্ঠিত করা যাবে;

২. ঈদের নামাজের জামায়াতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পুর্ণ মসজিদ

 

জীবানুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লীগণ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে পারবেন;

৩. করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে ওযুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে; ৪.

 

মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে; ৫. প্রত্যেকে নিজ নিজ

বাসা থেকে ওযু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে

 

হাত ধুতে হবে; ৬. ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত মুসল্লীকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না; ৭. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাড়ানোর

ক্ষেত্রে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করতে হবে; ৮. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোন অসুস্থ ব্যক্তি এবং

 

অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না; ৯. সর্বসাধারণের

সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই

 

প্রতিপালন করতে হবে; ১০. করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি

এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে; ১১. করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা

পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আল-আমিন এর দরবারে দোয়া করার জন্য

 

খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে; এবং সম্মানিত খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো

বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। ১২। উল্লিখিত নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী

বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে

 

স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট

মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উপরোক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো

১৩। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এ বিজ্ঞপ্তি জারী করা হলো।

 

 

Check Also

‘আসতে পারে তৃতীয় ঢেউ, লকডাউনেও কাজ হবে না’

পার্শবর্তী দেশ ভারতে সঙ্ক’টের মেঘ কাটার কোনও ইঙ্গিত নেই। উল্টো নতুন আশঙ্কার কথা শোনালেন ‘অল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *