1. tahsanrakibkhan2@gmail.com : admin :
  2. dailymoon24@gmail.com : Fazlay Rabby : Fazlay Rabby
এখনো যার অপেক্ষায় জিবনে ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ করেননি ‘ববিতা’ - Daily Moon
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

এখনো যার অপেক্ষায় জিবনে ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ করেননি ‘ববিতা’

ফজলে রাব্বি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৭ View

ঢালি’উডের জীবন্ত কিংবদন্তী ববিতা। দেশে আর দেশের বাইরে—সবার কাছে ববি’তা তাঁদের প্রিয়একজন অ’’ভি’নেত্রী, কিন্তু একমাত্র ছে’লে অনিকের কাছে শুধুই সংগ্রা’মী মা। তাই তো সংগ্রামী

মায়ের স্বপ্ন পূরণে ছে’লে অনিক পড়া’শোনা ছাড়া আর কিছুই ভাবতেন না। স্কুলের শুরুটা হয়েছিলঢাকার বনানীতে ‘প্লে-পেন’ থেকে। ক্লাস সিক্স থেকে পড়াশোনা চলে ইংরেজি মাধ্যমে, স্কুল স্কলাস্টিকায়।

এখান থেকেই ‘ও’ লেভেল আর ‘এ’ লেভেল শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন কানাডার ওয়াটার লু ইউনিভা’র্সিটিতে। কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। এখন চাকরি করছেন।

ববিতা বলেন, ‘নব্বই দশকের শুরুর দিকে আমি খুব ব্যস্ত একজন অ’ভিনয়’শিল্পী। এক সন্তানের মা। তা-ও আবার সিঙ্গেল মাদার। অনিকের বাবা যখন মা’রা যান, তখন ওর বয়স তিন বছর।শুটিংও ফেলে রাখা যাবে না। তবে এর মধ্যে ভালো ভালো ছবি করার প্রস্তাব ছাড়তে হয়েছে। ঢাকার বাইরের শুটিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক কিছু ভাবতে হতো। আর ঢাকায় যেসব ছবির শুটিং হতো, সেগুলো করার ক্ষেত্রেও

অনেক চিন্তাভাবনা করেছি।’ ববিতা বলেন, ‘অনিক যখন বনানীর স্কুলে যাওয়া শুরু করে, তখন শুরুর দিকে আমি ওর ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়ি’য়ে থাকতাম। পরীক্ষায় সময় এটা বেশি করতে হতো।’

প্লে-পেন স্কুল থেকে অনি’ককে যখন স্ক’লাস্টিকায় ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন মা ববি’তা, ছে’লে নাকি তা চায়নি। অনেক বুঝিয়ে তারপর স্কলা’স্টিকায় ভর্তি পরীক্ষা দিতে রাজি করান। ভর্তি পরী’ক্ষায় খুব ভা’লো ফল করে ছে’লে অনিক। প্লে-পেন স্কুলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ার পর শুরু স্কলা’স্টিকায়।

ববিতা বলেন, ‘অনিকের পড়া’শোনার শুরুর পর আমাকে শুটিংয়ের ব্যাপার অনেক সচেতন হতে হয়েছিল। কারণ বাবা নেই। শুটিং আর পড়াশোনা দুই-ই দেখতে হতো আমাকে। পরিচালকেরা যাতে সম’স্যায় না পড়েন, তাই অনেক ক’ষ্টে ঢাকার

আশপাশে দু-একটা আউটডোর শুটিং করতে হতো। বাসায় যদিও কাজের লোক ছিলেন, তারপরও আমি পুরোপুরি একা। সংসার চালাতে আয় যেমন করতে হবে, সংসারও ঠিক রা’খতে হবে। এমন হতো, অনিক কোচিং করবে, আমি রা’স্তায় গাড়ির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতাম।

আমা’র তখন চিন্তা, ছে’লেকে মানুষ করতে হবে। কো’চিং শেষে যখন নিচে নামত, তখন ওকে নিয়ে বাসায় ফি’রতাম। অনিকের পড়াশোনার চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি শুটিংয়ের সময় স’কাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত করে নিয়েছিলাম।

অনেকটা অফিসের মতো। এর মধ্যে দুপুরে বাসায় যেতাম। খাও’য়াদাওয়ার বিষয়টি ঠিক করতাম।’ একমাত্র সন্তানের জন্য ববিতা যে সংগ্রাম কর’ছেন, ছবির কাজে ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়েছেন, তা নাকি সন্তানও বুঝ’তে পারত। এখন যখন নিজেদের মধ্যে

আড্ডা হয়, তখন নাকি এসব কথা প্রায়ই বলে অনিক। ববিতা বললেন, ‘ও এখন বলে, আমা’র মা আমা’র জন্য অনেক স্যাক্রিফাইস করেছেন। এটা ওর ম’নের মধ্যে সব সময় কাজ করেছে। মনে মনে নাকি একটা জিদও কাজ করেছে। তাই মা খুশি হবেন, তেমন কাজই করত।’

ববিতার ইচ্ছে ছিল ছে’লে ভালোমতো পড়া’শোনা করবে। যে ববিতা সবার কাছে প্রিয় অ’ভি’নেত্রী, কিন্তু তিনি সন্তানের পরিচয়ে পরিচিত হতে চেয়ে’ছেন। সন্তান মায়ের সেই ইচ্ছে পূরণ করেছেন। ববিতা বলেন, ‘প’ড়ালেখা, পড়ালেখা আর শুধু পড়ালেখা। সেই ফল সে পেয়েছে।

কানাডার ওয়াটার লু ইউনি’ভা’র্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষে ছে’লের সমা’বর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছে’লের ভা’লো ফলের জন্য আমাকে খোঁজ করেন। অনেক সম্মান পেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, স্বপ্নপূরণ হয়েছে, পরিশ্রম সার্থক।’ ববিতা দীর্ঘ অ’ভিনয়জীবনে ২৭৫টি ছবি’তে অ’ভিনয় করেছেন। দেশের বিখ্যাত

সব নির্মাতার পাশা’পাশি কাজ করেছেন দেশের বাইরের বিখ্যাত নির্মাতার ছবিতেও। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি’সংকেত’ ছবির জন্য ববিতা দেশে ও দেশে’র বাইরে প্রশংসা কুড়ান। সন্তানকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে ছবিতে কাজ কমিয়ে দিতেও বাধ্য হন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021  dailymoon24.com
Theme Customized BY IT Rony