1. tahsanrakibkhan2@gmail.com : admin :
  2. dailymoon24@gmail.com : Fazlay Rabby : Fazlay Rabby
‘এ রকম বাটপারের ফান্দে আপনারা পড়লেন কীভাবে’ - Daily Moon
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৭ অপরাহ্ন

‘এ রকম বাটপারের ফান্দে আপনারা পড়লেন কীভাবে’

ফজলে রাব্বি
  • Update Time : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ১০ View

দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ শপ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, ‘আমি ওনাদের বারবার প্রশ্ন করছি, আপনারা এ রকম বাটপারের ফান্দে (ফাঁদে) পড়লেন কীভাবে?’

বুধবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় সময়ই নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের কথা শোনাতে আপনাদের কাছে আসি। আজকে যাদেরকে আমার সাথে দেখেছেন তারা হলেন নিঃস্ব

হওয়া মানুষ। আপনারা জানেন তাদেরকে অনেক কম দামে মাল দেবে বলে এদের কাছ থেকে অরেঞ্জ নামে একটি সংগঠন, সংস্থা যারা টাকা নিয়েছিল, তাদের মাল ডেলিভারি দেওয়ার তো কোনো খবরই নাই। উল্টা এরা নাকি ভেগে চলে গেছে।’

সুমন বলেন, ‘দুইজনকে নাকি পুলিশ ধরছে। তাদের পুলিশ ধরুক বা যাবজ্জীবন সাজা হয়ে যাক। কিন্ত এদেরে উদ্দেশ্য কাউরে সাজা দেওয়া না, এদের উদ্দেশ্য টাকাটা ফেরত পাওয়া। আমি ওনাদের বারবার প্রশ্ন করছি, আপনারা এ রকম বাটপারের ফান্দে (ফাঁদে) পড়লেন কীভাবে?’

এরপর একজন ভুক্তভোগীর কথা শোনেন তিনি। জড়ো হওয়া লোকদের মধ্যে থেকে একজন কথা বলেন। ব্যারিস্টার সুমন তাকে প্রশ্ন করেন, আপনারা জেনে-বুঝে এ রকম খারাপ জায়গায় টাকাটা দিলেন কীভাবে?’ লোকটি জবাবে বলেন, ‘এই প্রশ্নটা সবার

মনেই আছে, আমরা কেন জেনে-বুঝে অফারে পা দিলাম। বিষয়টা হচ্ছে, আপনারা দেখবেন দেশের বাইরে যারা আছেন তারা ক্রেডিট কার্ডে এমাজন নামক প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন পণ্য নেন, পাবলিকেরও কিনতে সুবিধা হয়। আমাদের দেশেও কিন্তু চালু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ধরুন আমার একটি মোবাইল বা বাইক দরকার, সেটা কেনার সামর্থ্য নেই। আমি সেটা কমে পেয়ে কিনে নিয়েছি। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এমনও হয়েছে, করোনাকালে কারো চাকরি নাই। কারো ব্যবসা নাই। তারা বিভিন্নভাবে কিন্তু আর্থিক সমস্যার মধ্যে। অনেকেই আবার কিন্তু লাভেও কিনছে, সেটাও সত্য।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আপনারা ঘরে থাকুন, অনলাইনে কেনাকাটা করুণ। অনলাইনে অফারে যদি আমরা জিনিস না কিনতে পারি, সেই ক্ষেত্রে আমরা কোথায় যাবো।’

আপনাদের কতজনের কী পরিমাণ টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক থেকে দুই লাখ মানুষের টাকা আছে। প্রায় ১১০০ কোটি টাকার বেশিও হতে পরে। আমাদের সকলেরই অনেক টাকা ইনভেস্ট করা আছে।’ আপনারা কী করতে চান জানতে

চাইলে ব্যারিস্টার সুমনকে তিনি বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলতে চাই ‍তিনি যেন আমাদের এই টাকা দ্রুত সুরক্ষার ব্যবস্থা করেন। যাতে ফেরত পাই। কোম্পানি যাতে কোনো প্রতারণা না করতে পারে।’

এরপর ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘তারা হাইকোর্টে আমার কাছে এসেছেন মামলা করার জন্য। এখন মামলা করতে করতে যদি তার ভেতরে টাকাটা চলে যায়। আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় মামলা করে টাকা ফেরত নিয়ে আসা অনেক কঠিন কাজ।’

ই-অরেঞ্জ এর কাছ থেকে এসব ব্যক্তির অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘তাদের টাকাটা ফেরত দেওয়া সরকারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে অনুরোধ জানাবো যে, জরুরি ভিত্তিতে ই-অরেঞ্জ এর

কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার। আপনারাই তো ওদের গার্ডিয়ান। এরা হয়তো ভুল করে এ রকম একটা ফাঁদে পা দিয়েদেছে। এই টাকাগুলো উদ্ধারের দায়িত্ব কিন্তু আপনাদের আর আপনারাই এদেরকে প্রটেকশন দেবেন।’

তিনি বেলন, ‘সবার নেতা হচ্ছেন গিয়া আপনারা। ই-অরেঞ্জ তো আমি বারবারই বলে আসছি, আমি ই-ভ্যালির বিরুদ্ধে বলে আসছি, ইভ্যালি টিকতে পারে না। ই-অরেঞ্জ, ধামাকা। আমরা চাই যে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটা অনেক বড়ো হো। কিন্তু প্রতিদিনই

যদি এ রকম মানুষের ফকির হওয়ার গল্প শুনতে হয়, প্রতিদিন মানুষ এসে যদি এ রকম নিঃস্ব হওয়ার গল্প বলে, তাহলে তো আর ই-কমার্সের প্রতি মানুষের বিশ্বাস থাকবে না। অন্তত এই ব্যবসাটারে নষ্ট করে দিয়েন না।’

সুমন বলেন, ‘আমি বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে বলবো ই-অরেঞ্জ এর অ্যাকাউন্টটাকে আপনারা নজরে রাখেন। অন্তত টাকাটা যেন ট্রান্সফার করতে না পারে। পরবর্তীতে টাকাটা সবাইকে দিতে পারবেন। কারণ, আপনাদের হাতে এই দায়িত্ব থাকে।

আর ই-অরেঞ্জ এর কাছে যদি দায়িত্বটা দিয়ে দেন তাহলে এখানে যে চেহারাগুলো দেখছেন এরা সবাই নিঃস্ব হয়ে যাবে। মনে রাখবেন করোনাতে এমনিতেই ১২টা বেজে গেছে। পাঁচ টাকা দেওয়ার মতো এদেরে অবস্থা নাই। টাকাটা যদি নষ্ট হয়ে যায় এরা আর বাঁচবে না।’

‘তাই সরকারের কাছে করজোড়ে অনুরোধ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। অনেকেই বলতে চাচ্ছেন যে এরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবে। অনেকে ঋণ করেও টাকা দিয়েছে। এই মানুষগুলো বিশ্বাস করে আমাদের

জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিশ্চয় কোনো না কোনো ব্যবস্থা নেবেন। কারণ জনগণের যে দীর্ঘ নিঃশ্বাস, আমি বিশ্বাস করি আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা বিশ্বাস করেন, নিশ্চয় বণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক এদেরকে সুরক্ষা দেবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021  dailymoon24.com
Theme Customized BY IT Rony