গাছের পাতা খেয়েছেন বৃদ্ধ, ল’কডাউনে জোটেনি খাবার!

গাছের পাতা খেয়েছেন- পৃথিবীজুড়ে চলছে ল’কডাউন। আগামী ১৭ মে পর্যন্ত

ল’কডাউন চলবে। লকডাউনের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন।

অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না। কাজ না থাকায় বহু মানুষ খাবারের কষ্ট করছেন।

 

লকডাউন জারি করার পর থেকেই বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এদিকে,

ভারতে যখন আকস্মিক ল’কডাউন ঘোষণা করা হয় তখন অনেকেই বিভিন্ন রাজ্যে আ’টকা পড়েন।

সম্প্রতি লকডাউনে আটকা পড়া এক বৃদ্ধের করুণ কাহিনী উঠে এসেছে।

 

তিনি আকস্মিক ল’কডাউনের কারণে কলকাতায় আ’টকা পড়েছিলেন।

সেখানে খাবার না পেয়ে গাছের লতা-পাতা খেয়েই দিন কাটিয়েছেন।

ওই বৃদ্ধ কলকাতা স্টেশনের কাছেই ছিলেন। খাবারের কষ্টে বাধ্য হয়ে স্টেশনের

 

বাইরে রেলিং ঘেরা বাগানের ঝোপ থেকে কচি পাতা ছিঁড়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছেন তিনি।

প্রায় দু’দিন অভুক্ত থাকার পরও খাবারও জোটেনি। আর কোনো উপায় না দেখে হাতের

কাছে থাকা গাছের পাতা চিবিয়ে পানি দিয়ে গিলে কোনও রকমে টিকিয়ে রেখেছিলেন প্রাণটা।

ল’কডাউনে কলকাতায় আটকে পড়ে এভাবেই কয়েকটা দিন কাটিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের

নাকাপুরা গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ গোরুক্ষ সিং। না খেতে পাওয়ার কথা কাউকে বলতেও পারেননি।

এই শহরও বুঝতে চায়নি তার অভুক্ত থাকার য’ন্ত্রণা।

 

তবে ঘটনাক্রমে রাজারহাটের বাসিন্দা আসাদুল আর ফারুক নামের দুই যুবক

অবশেষে তাকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন। পরে তারাই ওই বৃদ্ধের খাবারের ব্যবস্থা করে দেন।

৮০ বছর বয়সী গোরুক্ষ সিং উত্তরপ্রদেশ থেকে কলকাতায় এসেছিলেন এক ব্যক্তির

 

কাছ থেকে টাকা নিতে। এক বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছিলেন তিনি।

সেখানেই টাকা বাকি ছিল। ল’কডাউনের আগে ট্রেনে চড়ে কলকাতায় ওই বাড়িতে যান।

কিন্তু সেখানে পাওনা টাকা মেলেনি। এরপরই ল’কডাউনে শহরে আটকে পড়েন ওই বৃদ্ধ।

 

ঠাঁই হয় কলকাতা স্টেশনে। দু’দিন সেখানে না খেয়েই কাটিয়েছেন। পরে অবশ্য

খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে। এই ঘটনা ভারতে ল’কডা’উনের প্রথম দিকের। সম্প্রতি সামনে এলো এই চিত্র।

লকডাউনের কারণে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া অনেক লোকজনই আ’টকা পড়েন।

 

বিশেষ করে শ্রমিকরা কাজের উদ্দেশে বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিতে যান। লকডাউনের

কারণে দিনের পর দিন সেখানে আটকা থেকে ব্যাপক ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়েছে তাদের।

শুধু গোরক্ষ সিং একা নন, বিহারের ছাপরার বাসিন্দা রবীন্দ্র যাদব কলকাতার একটি

 

বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। তিনি অসুস্থ হয়ে তার বাড়িতে চলে যান।

লকডাউনের আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে টাকা নিতে আসেন। লকডাউন ঘোষণার

প্রথম দিন পকেটের টাকা দিয়ে পাউরুটি কিনে খেয়েছিলেন। পরের দিন থেকে

 

তার টাকা শেষ হয়ে যায়। টানা দুদিন শুধু পানি খেয়েছিলেন রবীন্দ্র। এখন তার খাবারেরও

ব্যবস্থা করেছে আসাদুল ও ফারুক। এ তালিকায় আরও আছেন উত্তরপ্রদেশের রাকেশ যাদব,

শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা করাতে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। বিহারের ৭৫ বছরের সুধীর দত্ত,

 

মথুরা, বৃন্দাবনের কাজল পাল, রায়গঞ্জের মনিকা সিংসহ ২৬ জন রয়েছেন

কলকাতা স্টেশনে। ওই বৃদ্ধসহ কলকাতা স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ২৬ জনের

খাবারের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন এ দুই যুবক।

Check Also

নিঃস্ব হওয়ার পথে ভারত!

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, ভারতে প্রতি সেকেন্ডে চারজন করে নতুন করো’না রোগী শনা’ক্ত হচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *