1. tahsanrakibkhan2@gmail.com : admin :
  2. dailymoon24@gmail.com : Fazlay Rabby : Fazlay Rabby
ঘানি টেনে চলছে মা-মেয়ের জীবনযু’দ্ধ - Daily Moon
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১২:১২ অপরাহ্ন

ঘানি টেনে চলছে মা-মেয়ের জীবনযু’দ্ধ

ফজলে রাব্বি
  • Update Time : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৪ View

দেশী সরিষা পেশাই করে তেল বের করা য’ন্ত্রকে ঘানি, বা ঘানি গাছ বলা হয়।সাধারণত ঘানি টানার জন্য কলুরা গরু ব্য’ব’হা’র করে।তবে দ’রি’দ্র কমলা বেগমের গরু কেনার সা’ম’র্থ নেই।অ’ভাবের সংসার। একদিন ঘানি না

ঘুরালে সংসা’রে’র চাকা ঘুরে না।অ’ভা’ব যখন ঘরের দরজায় উঁকি দেয়,চার’দি’ক তখন অন্ধকার হয়ে আসে পরি’বার’টির।কখনো স্বামী-স্ত্রী, কখনো মা-মেয়ে কাঠের তৈরি কা’ত’লা’র উপর প্রায় ৪০০ কেজি ওজন বসিয়ে

ঘাড়ে জোয়াল নিয়ে ঘানি টান’ছেন প্রায় ৩২ বছর ধরে। ঘানির টানে ডালার ভি’তরে সরিষা পেশাই হয়ে পাতলানী দিয়ে ফুঁ’টা ফুঁটা তেল পড়ে ঘ’টি’তে।বা’জারে বা গ্রামে সেই তেল বিক্রি ক’র’তে পা’রলেই সংসার চলে তাঁদের। ময়মনসিংহের

ফু’লবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল কড়ইতলা গ্রামে তারা মি’য়ার স্ত্রী কমলা বেগম।তাঁদের দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান র’য়ে’ছে।দুই সন্তান বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। জমি জমা নেই।ভি’টে’বা’ড়ি টু”কু’ই সম্বল। মানুষকে নির্ভেজাল তেল

খাও’য়াবেন বলে বংশপরম্পরায় এ পেশা তাঁরা এখ’নও ছাড়ছেন না।তাঁদের বংশের সবাই এ পেশা ছেড়ে ‘দি’য়ে’ছেন।গ্রামের মানুষ এ পেশা ছেড়ে দিতে ব’লেন এবং মাঝে মধ্যেই কটূকথাও বলেন।সবকিছু সহ্য করে বাপ-দাদা’র পেশা আগলে ধরে

রে’খে’ছে’ন। মেশিনের তৈরি স’রিষার তেলের দাম বাজারে কম। ঘানি ভাঙ্গা তে’লে’র দাম বেশি।সা’ধা’র’ণ মানুষ বেশি দামে ঘানির তেল কিনতে চায় না।যারা ভেজালমুক্ত ঘানি ভাঙ্গা খাঁটি সরিষার তেল কিনেন,সংখ্যায় তাঁরা একেবারেই কম। ফুলবাড়িয়ায় কড়ইতলা ও পা”নে’রভি’টা দুই গ্রামে এক সময় অ’ন’ন্ত দুই শতাধিক প’রিবারের ঘানি গাছ ছিল। কালের বি’র্ব’ত’নে আর

ই’ঞ্জিল চালিত যান্ত্রিক চাকার কারনে ঘানি শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে।কু’শ:মা:ইল কড়ইতলা গ্রামে দুটি বাড়িতে এখন মাত্র তিনটি ঘানি গাছ রয়েছে। শম:সের আ’লীর,চান মিয়া ও তাঁর ছেলে তারা মিয়া এই তিন জনের ঘানি গাছ র’য়ে’ছে।শমসের আলী ছেলে-মেয়েরা ঘানি গাছের জোয়াল টা’নে’ন।চাঁন মিয়ার বয়স প্রায় ৬৫ বছর, তাঁর স্ত্রী ফি’রোজা বেগমের বয়স ৫৮

বছ’র।এক সময় তাঁরা ঘানি ভাঙ্গা ৬ থেকে ৭ কেজি তেল উৎপাদন করতে পার’তেন। বয়সের কারনে আগের মতো শরীরের শক্তি নেই।হত’দরিদ্র স্বামী স্ত্রী এখন মাঝে মধ্যে নিজেরাই ঘাড়ে জো’য়াল নিয়ে ঘানি টানেন।১ থেকে ২ কেজি তেল উৎপা’দন ক’রতে পারলে বা’জারে নিয়ে বিক্রি করে কোন র’কম সংসার চা’লা’য়।বয়’সের ভারে মাঝে মধ্যে শরীর ভাল থাকে না।সে

স’ম’য়টা দরি’দ্র স’ন্তা’নের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় এক মুঠো ভাতের জন্য।সরেজমিনে কড়’ইতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,গ্রামের ভিতরে এক সাথে দুটি বাড়ি।বাড়ি দু”টি’তে তিনটি ঘানি গাছ র’য়ে’ছে।দুটিতে তেল উৎপাদন হচ্ছে। তারা মি’য়ার ঘানি গাছ বন্ধ র’য়ে’ছে।কমলা বেগমের স্বামী তারা মিয়া খুপড়ি একটি ঘরের বারা’ন্দা’য় বসে তেল মেপে দিচ্ছেন মামুন রানা

নামের এক যুবককে।মামুন রানার ফেরিওয়ালা নামে অনলাইনে একটি ব্যবসা সাইট র’য়ে’ছে।ঘানি ভাঙ্গা খাটি সরিষার তেল সংগ্রহ করে তিনি অ”নলাইনে বিক্রি করেন।পা’শে”র একটি ছোট্ট ভা”ঙ্গা ঘরে ঘানি টানছেন কমলা বেগম (৪৬) ও তাঁর মেয়ে কাকলি বেগম (২২)। ঘানির ডালার ভিতরে দেশী ৪ কেজি স’রি’ষা দিয়ে প্রায় দুই ঘন্টা যাবৎ ঘানি টেনে ১২০০ গ্রাম

প”রি’মা”ন তেল উৎ’পা’দন ক’রে’ছে’ন।খৈল হ’য়েছে প্রায় তিন কেজি। দেশী সরিষার দাম এখন বেশি হও’য়ায় প্রতি কেজি তেল বিক্রি ক’রে’ন ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা।আর খৈল বিক্রি করেন ৬০ টাকা কেজি দরে।ফোঁ’টা’য় ফোঁ’টায় চু’ই’য়ে ১২০০ গ্রাম তেল উৎপা’দন ক’রতে গিয়ে ঘাড়ে জোয়াল নিয়ে মা-মে’য়ে’কে হা’ট’তে হয়েছে অন্তত ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার।

প্রতি’দিন তেল বিক্রি করে যা আয় হয় তাই দিয়ে তাঁদের সং:সার চলে।ভা’গ্যবদলের আশায় স্বামীর পূর্ব পরুষ’দের এ পেশা ক’মলা বেগম বিয়ের পর বেছে নিলেও অ’ভাব পিছু ছাড়ে’নি তাঁদের।সকাল ৬ টা থেকে ১০ টা, বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্য’ন্ত ঘানি টানেন।প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ কেজি সরিষা ভা:ঙ্গ’তে পারেন।কড়ইতলা গ্রামের আবুল হোসেন বলে’ন,এক সময় এ গ্রামে

অনেক গাছ ছিল (ঘানি গাছ) ‘এখন নেই ব’ল’লে’ই চলে, বর্তমানে দুটি বা’ড়ি’তে র’য়েছে।কমলা বেগমের পরিবার অভাবগ্রস্থ, গরু কেনা’র সামর্থ নেই।ঘাড়ে জোয়াল নিয়ে স্বামী,স্ত্রী ও মেয়ে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করেন।কমালা বেগম জানান,টা’কা’র অ’ভাবে গরু কি’নতে পারি না, মা- মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে বুকে ডেঙ্গা বাধিয়ে জোয়াল টানি, একদিন

জো’য়াল টানতে না পারলে খাব কি?বয়স হচ্ছে আ’গে’র মতো পা’রি না,দুটি না হ’লে’ও একটি গরু থাক’লেও এমন হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম মা-মেয়ের করতে হত না।মাঝে মধ্যে বৃদ্ধ শ্ব’শুর-শ্বাশুড়ি ঘানি টেনে সহযোগীতা করেন।তারা মিয়া “বলে’ন,আ’গে’র মতো দেশী সরিষা পা’ওয়া যায় না,গ্রামে ঘুরে ঘুরে সরি’ষা সংগ্রহ করি, তারপরও দাম বেশি।বাপ দাদার

সাথে ‘জোয়া’ল (ঘানি) টানতে টানতে অন্য কোন পেশা শিখতে পারিনি।প্রায় চার যুগ ধরে নিজে জো’য়া’ল টা’নছি।এখন আর শরীর চায় না,স্ত্রীর সাথে মেয়ে কা”ক’লি জো’য়াল টানে।একটি গরু থাকলে মৃ’ত্যুর আগ পর্যন্ত বংশপরম্পরায় পেশাটি ধরে রাখতে পা’র’তা’ম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021  dailymoon24.com
Theme Customized BY IT Rony