‘পেট ভরে খেতে পারলেই হলো, বাজেটের খোঁজ রাখি না’

জাতীয় বাজেটে নেয়া অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে কোটি কোটি টাকা আয়-ব্যয়ের

হিসাব বদলে যায় অনেক সম্পদশালীর। নিজের স্বা’র্থেই এসব ব্যক্তিরা জাতীয় বাজেটে কি আসছে,

আর কি আসছে না তার খোঁজ রাখেন। অন্যদিকে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া মধ্যবিত্ত

 

শ্রেণির অনেকেই বাজেট নিয়ে ভাবেন। বাজেট ঘোষণার পর কোন কোন জিনিসের দাম

বাড়লো বা কমল তার হিসাব করতে বসেন। তবে বাজেট নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই কম আয়ের মানুষদের।

তিন বেলা নিয়মিত খাবার জুটানোর সংগ্রামে ব্যস্ত তারা। এসব মানুষগুলো এবারে ক’রোনার

 

কারণে আছে আরো বিপাকে। নিম্নবিত্তের অনেকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল,

কেমন বাজেট চান? জবাবে সবাই প্রায় একই উত্তর দেন, ‘পেট ভইরা খাইতে পারলেই হয়

বাজেটের খোঁজ রাখি না। ক’রোনা’য় কাজ নেই। করোনা কবে যাবে তাই কন।’

 

বাজেট কি, কেন বাজেট প্রণয়ন করা হয়, চলতি বাজেট কবে শেষ হবে, কবে নতুন

বাজেট চূ’ড়া’ন্ত হবে, আগের বাজেটে কি ছিল, নতুন বাজেটে কি এলো এসব বোঝেন

না কম আয়ের মানুষরা। জানার আগ্রহও নেই তাদের। তারা আশায় আছে, ‘কবে ক’রো’না যাবে।

 

ক’রোনা গেলে আবারো স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসবে। আগের মত কাজ করতে পারবে।

এতে কম বেশি তিন বেলা খাবারত জুটবে।’

মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকার ন্যাম সরকারি কোয়াটারের গেটের পাশে পাঁচ জন দিন মজুর বসে ছিল।

 

আগামী ১১ জুন জাতীয় বাজেট ঘোষণা করবে সরকার এমন কথা জানিয়ে তাদের

কাছে জানতে চাই, ‘এবারের বাজেটে কি পদক্ষেপ নেয়া হলে আপনাদের জন্য ভাল হবে?

বাজেটে যা বলা হবে আগামী বছরের ৩০  জুন পর্যন্ত সে নিয়মে দেশের ব্যবসা বাণিজ্য চলবে।

 

উত্তরে দিন মজুরদের মধ্যে বয়সে তরুণ সিরাজ বলে উঠে, ‘কিয়ের বাজেট? গত দুই

মাসের বেশি সময় ক’রোনা’র কারণে কাম নেই। করোনার আগে এই হানে ঘণ্টা খানিক

বইসা থাকলেই কাজ জুইটা যাইত। আর অহন বেশির ভাগ দিন দুপুর পর্যন্ত বইসা থাইকা

 

বস্তিতে ফিইরা যাই। ক’রোনা’য় কাম অয়না। কেডা কাম দিবো?’

সিরাজ বলে, ‘কাম না হইলে খাইব কি? পরিবারে বুড়া বাপ মা ছোট বইন আছে।

ক’রো’না শুরু হওয়ার পরে থেইক্কা টাকা পায়সার কষ্টে আছি। বা’জেট বুঝি না,

 

ক’রোনা কবে যাইব আর কবে আগের মতন কাজ পাইব তার খবর থাকলে কন।’

মিরপুর ১৩ নম্বরের পুলিশ কনভেশন সেন্টারের সামনের রাস্তায় রিকশা নিয়ে

মধ্যবয়সী ইদ্রিস আলী যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। বাজেট কি, কবে ঘোষণা করা হবে

 

এসব ধারণা দিয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় এবারের বাজেটে কি চান?

ইদ্রিস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ক’রো’নার বিদায় চাই।

করোনা আসার আগে আমরা ভালাই ছিলাম। আমি রিকশা চালাই।

 

আমার দুই মাইয়া ও বউ বাসাবাড়িতে কাম করত। আমি আর আমার পরিবার যা

কামাই করতাম তা দিয়ে ভালাই চলত। ক’রো’না আসায় সব বদলাই দিছে।’

ইদ্রিস আলীর কথায় জানা যায় ক’রো’না আসার পর ছুটা বুয়া বাসায় ঢুকতে দিচ্ছে

 

না বলে তার বউ আর দুই মেয়ের কাজ চলে গিয়েছে। ক’রোনা’য় মানুষজন বাইরে কম বের হয়।

তাই সে আর আগের মতো ভাড়া পায় না। আয় কমে গিয়েছে। সে গত এক ঘণ্টা

এখানে বসে আছে। যাত্রী নেই। ক’রোনা’কালিন সং’ক’টে রোজার দিন ভালো মন্দ

 

খাবার দুরের কথা কোনো রকমে দিন কাটছে ইদ্রিস আলী ও তার পরিবারের।

ইদ্রিস আলী বলেন, ‘বাজেট দিয়া কি করবো? ক’রো’না চইলা গেলে সব কিছু আবার

আগের মতন হলে বাঁ’চি।’ রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি ছয় তলা বাড়ির

 

নিরাপত্তাকর্মী শুকুর মিঞা। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে গত পাঁচ বছর থেকে নিরাপত্তা

কর্মীর চাকরি করছে। তার কাছে জানতে চাই আগামী বাজেটে আপনার জন্য সরকারের

কাছে কি চান? শুকুর মিঞা বলেন, ‘গত পাঁচ বছর দারোয়ানের কাজ করি। এই বিল্ডিং

 

এ আছি তিন বছর। একটি ফ্ল্যাটে সাধারণত একটি পেপার নিয়ে থাকে। কিন্তু যে দিন

বাজেট দেয়া হয় তার পরের দিন সকালে বেশির ভাগ ফ্ল্যাটে পেপারওয়ালার কাছ থেকে

দুইটা তিনটা বা তার বেশি পেপার নিয়ে থাকে। গত তিন বছর আমার বে’তন বাড়েনি।

 

এখন সব কিছু মিলিয়ে ৮ হাজার ৩০০ টাকা বেতন পাই। বাজেটে কি আসলো বা গেল

তাতে আমার কি?’ যৌ’নক’র্মী জ্যোস্না বেগমের কাছে বাজেটে কি চাও জানতে চাওয়া হলে বলে,

‘বাজেট আবার কি? এসব বুঝি না। বাজেট দিয়ে কি করবো ? ঐ সব বড় লোকেরা বুঝবে।

 

আমাদের কাছে আসলে ক’রো’না হবে এই ভয়ে খরিদ্দার আসে না। আয় না থাকায় এখন

নিয়মিত তিন বেলা খাবার খেতে পারি না। সাহায্য চাইতে গেলে অধিকাংশ মানুষ আমাদের

ফিরিয়ে দেয়। অল্প কিছু সাহায্য পেয়েছিলাম এলাকা থেকে। তা শেষ হয়ে গিয়েছে।

 

বাসা বাড়িতে কাজ করে মধ্যবয়সী মর্জিনা খাতুন। কেমন বাজেট চায় তার কাছে জানতে

চাওয়া হলে উত্তরে মর্জিনা খাতুন বলে, ‘কেমনে কই গো মা। পড়ালেহা জানি না।

বাজেট বুঝি না। তয় বাজেটে মনে হয় বাবুর দুধের দাম বাড়ে।’

 

তার সাথে কথা বলে জানা যায় এই বাসায় মর্জিনা খাতুন দুই বছর থেকে আছে।

বাসার গৃহকর্তি কলেজে পড়ায়। একবার টেলিভিশনে বাজেট দেখার পর মর্জিনা খাতুনকে

তার গৃহকর্তি ডেকে বলেছিল, বুয়া বাবুর দুধ হিসাব করে বানাবে। বাজেটে দুধের দাম বেড়েছে।

 

Check Also

ধর্ম নিয়ে রুচিহীন প্রশ্ন বন্ধ হোকঃ বিব্রত চঞ্চল চৌধুরী

বাংলা নাটকের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চঞ্চল চৌধুরী। এই পর্যন্ত ভিন্নধর্মী অভিনয় করে ভক্তদের হৃদয়ের মণিকোঠায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *