প্রাচীনকালের যত অ’দ্ভু’ত চি’কিৎসা, প্রথম পর্ব

প্রাচীনকালে কিছু অ’দ্ভু’ত চি’কিৎসা ছিলো, যা একরকম প্রথার মত তখনকার সমাজে কাজ করত।

বর্তমানে এসব চিকিৎসা খুব স্বাভাবিকভাবে যাচ্ছেতাই বলেই বিবেচিত হবে। প্রা’চীনকালের

এসব অ’দ্ভু’ত চি’কিৎসা’ প্রথাগুলো নিয়েই  আজকের এই প্রতিবেদন। পড়ুন বিস্তারিত…

 

মা’থার খু’লি ছি’দ্র করা
আপনার যদি কখনো তীব্র মাথাব্যথা হয় আপনি কি সমাধান হিসেবে মেশিন দিয়ে আপনার খু’লি ছি’দ্র

করার কথা ভাববেন? এটা আ’জগু’বি বলে মনে হলেও প্রাচীনকালে তী’ব্র মাথাব্য’থা এবং বিভিন্ন স্নায়বিক

স’মস্যা’র সমাধান করতে খুবই ছোট এবং সূ’চা’লো ‘ড্রি’ল মেশিন দিয়ে মাথার খু’লি ছি’দ্র করা হতো।

 

এ ধরনের চি’কিৎসা’র ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষের মৃ’ত্যু’ ঘ’টতো। গ্রিস, আফ্রিকা,

পলিনেশিয়া এবং আমেরিকাতে আজ থেকে ৭০০০ বছর আগে এই অদ্ভুত চি’কিৎসার

প্রচলন ছিল। এমনকি এই অদ্ভুত চিকিৎসা ১৯ শতকের গোড়ার দিকেও বহুল প্রচলিত ছিল।

 

জোঁক চিকিৎসা
জোঁ’কেরা র’ক্তমো’ক্ষণ প’দ্ধতির উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে সেই প্রাচীনকাল থেকে এবং বিভিন্ন

ধরনের সং’ক্র’মণ, চর্ম’রোগ, দাঁ’তের রো’গ, স্নায়বিক সমস্যার সমাধানে জোঁ’ক চি’কিৎসা ব্যবহৃত হতো।

বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও জোঁ’কের ব্যবহার রয়েছে। জোঁকের দেহের কিছু গুরুত্বপূর্ণ

 

পেপটাইড এবং প্রোটিন ক্ষত জায়গার র’ক্তে’র ভারসাম্য র’ক্ষা’র্থে অ’ত্যন্ত কার্যকরী।

এমনকি ক্যা’নসার, আ’র্থ্রাইটিস, হৃ’দরো’গ এবং উচ্চ’র’ক্ত’চাপের ম’তো রো’গ

নিরাময়কারী ওষুধ তৈরিতে জোঁ’কের জুড়ি নেই আজও।

 

মৃ’ত’দে’হ থেকে তৈরি ওষুধ
প্রাচীনকালে ম’রা মানুষের মাথার খু’লি গুঁ’ড়া করে তৈরি করা হতো বিভিন্ন ধ’রনের ও’ষুধ।

সেই রোমান জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের রাজত্বকালের

সময় পর্যন্ত ম’রা মানুষ থেকে ও’ষু’ধ তৈরির প্রথা প্রচলিত ছিল। এমনকি মিশরের বিভিন্ন

 

পিরামিডে মৃ’তদে’হ চুরির ঘটনা ঘটতো বলে জানা যায়। ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

রিকার্ডো সাগ বলেন, ‘মা’নবদেহের মাং’স, হাড়, র’ক্ত প্রা’চীনকা’ল থেকেই বিভিন্ন চিকিৎসার

কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, এমনকি আধুনিক চি’কিৎসা’ও এর ব্যতিক্রম নয়।’

 

ম’লের তৈরি ম’লম
যা বলা হচ্ছে তা সত্যিই সত্যিই ছিল। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় বিচিন্ন প্রা’ণীর ম’ল ক্ষ’ত

সারানোর কাজে ব্যবহার হতো। ইবারের প্যাপিরাস নামক নথিতে এমনি কিছু আজব

চিকিৎসার কথা লি’পিব’দ্ধ করা আছে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে কু’কুর, হ’রিণ এবং

 

গাধার মতো প্রাণীদের মল শুধুমাত্র চিকিৎসা নয় বরং প্রে’তাত্মা দূরে রাখার

কাজেও ব্যবহার হতো। কিছু মিশরীয় মেয়েরা তাদের যো’নি’র ভে’তরে কু’মিরের

মল গর্ভনিরোধক হিসেবে ঢু’কিয়ে রাখত।

মূ’ত্রপান
প্রাচীনকালে মিশর, গ্রিস এবং রোমে মূত্রপান ছিল বিভিন্ন ধরনের পেটের রোগের

বহুলপ্রচলিত সমাধান। বিভিন্ন ভারতীয় এবং চীনা ইতিহাসে সোনালী রঙের মূত্রের

অনেক ঔষধি গু’ণের কথা উলেখ করা আছে। তাছাড়া প্রাচীনকালে এটি কাপড়-চোপড়

ধোয়া এবং দাঁত সাদা করার কাজে ব্যবহৃত হতো।

 

র’ক্ত’মো’ক্ষণ
র’ক্তমো’ক্ষণ এমন একটি প’দ্ধতি যার মাধ্যমে কারো শরীর থেকে র”ক্ত বের করে দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ কলম্বিয়া মেডিকেল জার্নাল অনুযায়ী, খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০ অব্দে এই র’ক্তমো’ক্ষণ পদ্ধতি খুব

জনপ্রিয় ছিল। গ্রিক, এশিয়ান, আরব এমনকি ইউরোপীয়রা বিশ্বাস করত যে র’ক্ত, শ্লেষ্মা,

 

কালো পিত্ত ও হলুদ পিত্ত হল মা’নবদে’হের চার’টি গুরুত্বপূর্ণ দ্রবণ এবং এই দ্রবণগুলোর

মধ্যে ভারসাম্য রাখতে তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করত। এই চারটি উপাদানের ভারসাম্যহীনতা

একটি মানুষকে অ’সু’স্থ করতে পারে বলে মনে করা হতো। মাইগ্রেন এবং অন্যান্য শারীরিক

 

সমস্যার সমাধান হিসেবে মানুষের দেহ থেকে অর্থাৎ শিরা অথবা ধমনী থেকে র’ক্ত

বের করে দিয়ে রোগের চিকিৎসা করা হতো। হিস্টোরি ডটকমের একটি আর্টিকেল অনুযায়ী,

র’ক্তমো’ক্ষণ পদ্ধ’তির মাধ্যমে একবার জর্জ ওয়াশিংটনের জীবন বাঁচানো হয়েছিল এবং

খুব অল্পদিন আগেই এই প’দ্ধ’তির বিলুপ্তি ঘটে।

 

ফি’তাকৃ’মি ডা’য়েট
ভি’ক্টোরীয় যুগের সবচেয়ে জ’ঘন্যত’ম এক পদ্ধতি ছিল ফি’তা’কৃ’মির মাধ্যমে ওজন বা

শা’রী’রিক নি’য়ন্ত্র’ণ বজায় রাখা। মেয়েরা তাদের শরীরের গড়ন ঠিক রাখতে ফিতাকৃমির ডিম

খেতো যা পরবর্তীতে তার পেটে গিয়ে কৃমিতে পরিণত হতো এবং তার ভক্ষণ করা খাবার

 

খেয়ে তাকে শরীরের গড়ন ঠিক রাখতে সাহায্য করতো। কোনো মানুষ তার ইচ্ছামতো

খাদ্যগ্রহণ করতে পারতো কেননা শেষমেশ ওই ফিতাকৃমি তার পেটের অ’তিরি’ক্ত খাবার

খেয়ে ফেলবে। সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হল এই পদ্ধতি এখনো প্রচলিত আছে।

 

এই পদ্ধতির অবলম্বনের ফলে সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ অ’পুষ্টি, পে’টব্যথা,

ডায়রিয়া, বমিভাব, র’ক্তস্ব’ল্প’তা’ এবং জ্বরের মতো রোগ ঐতিহ্যের মতো

নিজের দেহে বহন করে নিয়ে আসছে।

 

 

পাদ বা মানব নিঃসৃত বা’য়ূ’র গ’ন্ধ শোঁকা

১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে লন্ডনে কালাজ্বর নিরাময় করতে চি’কিৎসকেরা এই পদ্ধতি অবলম্বন

করেছিলেন। তাছাড়া সেই সময়ের মা’রাত্ম’ক রো’গ প্লে’গ চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হত।

মানুষজন পাত্রে সংরক্ষিত পা’দের গ’ন্ধ গ্রহণ করত অথবা কোনো দু’র্গন্ধ’ম’য় প্রাণী বাড়িতে

কোনো পাত্রে সংরক্ষণ করত। যদিও এই পদ্ধতি সেসময় বহুলপ্রচলিত ছিল কিন্তু প্লেগ

চিকিৎসায় এটা কোনো কাজে আসেনি।

 

Check Also

ধর্ম নিয়ে রুচিহীন প্রশ্ন বন্ধ হোকঃ বিব্রত চঞ্চল চৌধুরী

বাংলা নাটকের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চঞ্চল চৌধুরী। এই পর্যন্ত ভিন্নধর্মী অভিনয় করে ভক্তদের হৃদয়ের মণিকোঠায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *