ফোন ধরেননি ডা. জাফরুল্লাহ, ফুল পাঠালেন খালেদা জিয়া

ক’রোনা’য় আ’ক্রান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর

নিতে তাকে ফোন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু ঘুমিয়ে থাকায়

খালেদা জিয়ার ফোন ধরতে পারেননি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

 

পরে সন্ধ্যার দিকে খালেদা জিয়ার বাসা থেকে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জন্য কিছু ফল ও

একগুচ্ছ ফুল পাঠানো হয় ঈদের শুভেচ্ছা এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনায়। বিএনপি

চেয়ারপারসনের বিশেষ স’হকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নেতৃত্বে

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবীর খান খালেদা

জিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া ঈদের শুভেচ্ছা ও ফল ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া অসুস্থ জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে বিকেলে ফোন করেছিলেন।

 

কিন্তু জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঘুমিয়ে থাকায় খালেদা জিয়া তার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

তারপরই খালেদা জিয়ার তিনজন প্রতিনিধি জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের

উদ্দেশ্যে রওনা হন। গতকাল সোমবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

 

ক’রো’নাভাই’রাসে (কো’ভিড-১৯) আ’ক্রা’ন্ত হন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবরেটরিতে

নমুনা পরীক্ষা হলে তার করোনা পজিটিভ আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা

জিয়া অসুস্থ জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে বিকেলে ফোন করেছিলেন।

 

কোরআনের ভুল ধরতে গিয়ে সুরা ইখলাস পড়ে মুসলিম হই’ : ইরিনা

কোরআনের ভুল ধরতে – ইরিনা হানদোনো ইন্দোনেশিয়ার সুপরিচিত নওমুসলিম। ১৯৮৩

সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে একজন ইসলাম প্রচারক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

নওমুসলিমদের জন্য ইরিনা সেন্টার নামে একটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেছেন এই নারী।

ইসলাম গ্রহণ বিষয়ে ইউটিউবে প্রচারিত তাঁর একটি আত্মকথার পরিশীলিত অংশ প্রকাশ করা হলো–

 

”আমি ইন্দোনেশিয়ার একটি ধার্মিক খ্রিস্টান পরিবারে বেড়ে উঠি। আমি প্রাচুর্যের ভেতরই বড়

হয়েছি। আমার পরিবার ছিল ধনী। তারা আমার শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে সব করেছে।

তখন সমাজের প্রচলিত ধারণা ছিল, খ্রিস্টানরা দেশের বেশির ভাগ মানুষ থেকে ভিন্ন। তারা ধনী,

 

শিক্ষিত। সুন্দর সুন্দর জুতা পরে। আর মুসলিম হওয়ার অর্থ—তারা দরিদ্র, অশিক্ষিত এবং

মসজিদের সামনে থেকে তাদের কম দামি স্যান্ডেলও চুরি হয়ে যায়। খুব ছোট থেকে আমি ধর্মীয়

অনুপ্রেরণা লাভ করি। আমি স্রষ্টার জন্য জীবন উৎসর্গ করার ইচ্ছা পোষণ করতাম। কিশোর বয়সে

 

স্থানীয় চার্চের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতাম। একজন নান হওয়ার প্রবল স্বপ্ন ছিল আমার।

একজন ক্যাথলিক হিসেবে জাগতিক জীবন চার্চে কাটাতে চাইতাম, যেখানে সবাই ভালো কাজ করে।

হাই স্কুল স্তর শেষ করার পর দীক্ষা নিতে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হই।

অবশ্য আমার সিদ্ধান্তে আমার পরিবার বিস্মিত হয়। কারণ পাঁচ ভাই-বোনের ভেতর আমি ছিলাম

একমাত্র মেয়ে। তাঁরা আমাকে কখনো চোখের আড়াল হতে দিতেন না। তবে আমার দৃঢ়তা দেখে

তাঁরা নমনীয় হন এবং আমার ইচ্ছা পূরণে সম্মতি দেন। একজন শিক্ষানবিশ নান হিসেবে আমি

 

কাজ শুরু করি। এ জন্য আমাকে কোনো বেগ পেতে হয়নি। তবে চার্চের বাইরে বিশেষ প্রশিক্ষণে

অংশ নিতে হয়েছিল। সেখানে ধর্ম-দর্শন বোঝার জন্য তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পড়ানো হয়। আমি এ

সময় ইসলাম ধর্মের তাত্ত্বিক আলোচনায় মনোযোগী হলাম। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার

 

দেশে জন্মালেও এটিই ছিল ইসলাম সম্পর্কে আমার প্রথম জ্ঞানার্জন। চার্চের সেই প্রশিক্ষণে

আমি ইসলাম সম্পর্কে কিছু কুসংস্কারের চর্চা দেখতে পাই, যা আমি খ্রিস্টসমাজে আগেও দেখেছিলাম।

মুসলিমরা দরিদ্র, অশিক্ষিত, অসভ্য ইত্যাদি। অবশ্য আমার ২০ বছর বয়সে আমি এসব কুসংস্কার

কখনো গ্রহণ করিনি, বরং নিজে বিচার-বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছি।

 

আমি অন্যান্য দেশ সম্পর্কে অধ্যয়ন শুরু করলাম। বিশেষত অমুসলিম দেশ সম্পর্কে। আমি

দেখলাম, ইন্দোনেশিয়ার মতো দারিদ্র্যের শিকার আরো অনেক দেশ আছে। যেমন—ভারত, চীন,

ফিলিপাইন, ইতালি (তখন) এবং দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ। আমি আমার শিক্ষকের কাছে

 

ইসলাম সম্পর্কে পড়ার অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। আমার অধ্যয়নের

উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের ত্রুটিবিচ্যুতি ও দুর্বলতা খুঁজে বের করা। আমার মিশন শুরু হলো।

আমি কোরআন নিয়ে বসলাম এবং এমন সব বিষয় অনুসন্ধান শুরু করলাম, যা ইসলামের বিরুদ্ধে

 

ব্যবহার করতে পারব। আমি তখনো জানি না, কোরআন ডান দিক থেকে পড়তে হয়। অন্যান্য

বইয়ের মতো বাঁ দিক থেকে পড়তে লাগলাম। প্রথমেই আমার চোখে পড়ল—‘বলুন! তিনি আল্লাহ।

তিনি এক। তিনি অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি।

কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়।’ (সুরা : ইখলাস)

 

Check Also

নিঃস্ব হওয়ার পথে ভারত!

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, ভারতে প্রতি সেকেন্ডে চারজন করে নতুন করো’না রোগী শনা’ক্ত হচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *