1. tahsanrakibkhan2@gmail.com : admin :
  2. dailymoon24@gmail.com : Fazlay Rabby : Fazlay Rabby
যে গ্রামে পুরুষের প্রবেশ, বসবাস নিষিদ্ধ ! - Dailymoon24
সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

যে গ্রামে পুরুষের প্রবেশ, বসবাস নিষিদ্ধ !

ফজলে রাব্বি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ১৫ View

বছর পনেরো আগের কথা। রোজালিনা লিয়ারপুরা তখন ছোট্ট শিশু। তিন বছর বয়স। বাবাকে সে কখনোই দেখেনি। শুনেছে, বাবা নাকি তার জন্মের আগেই মা’রা গেছেন। মা তাকে নিয়ে খুব ভ’য়ে থাকতেন। তারা কে’নিয়ার সাম্ব’রু জাতি’গো’ষ্ঠীর সদস্য। তাদের সমাজ ভ’য়ংক’রভাবে পুরু’ষতা’ন্ত্রি’ক। এখনো আছে বহু বিয়ের চল।

এমনকি প্রচলিত আছে মেয়েদের ‘খত’না’র কু’খ্যা’ত প্র’থা। ছোট থাকতেই কেটে ফেলা হয় মেয়েদের যৌ’না’ঙ্গের খা’নিক’টা অংশ। বাবা নেই। মায়ের পক্ষে সম্ভব ছিল না একা সে প্র’থার হাত থেকে মেয়েকে বাঁচানো। তাই রোজালিনাকে নিয়ে তিনি পালিয়ে আসেন উ’মোজা গ্রামে।

ওদিকে জে’নের ছিল একটা সা’জানো সংসার। স্বামী, শাশুড়ি, সন্তান নিয়ে। একদিন হঠাৎ করেই সব এলোমেলো হয়ে যায়। সাম্বরুদের প্রধান পেশা পশু পালন। জেনের স্বামীরও ছিল অনেক ছাগল আর ভেড়া। সেগুলো চড়াতেই বের হয়েছিলেন জেন। পাশাপাশি কুড়াচ্ছিলেন লাক’ড়ি। এর মধ্যেই কোথা থেকে আসে তিনজন লোক।

সা’মরি’ক উ’র্দি প’রা। একা পেয়ে তাঁকে ধ.র্ষ.ণ করে। ধ’স্তাধ’স্তিতে তাঁর পায়ে গ’ভীর ক্ষ’ত হয়। মা’নসি’কভাবে ভে’ঙে পড়েন। ঘট’নাটা বলেন তাঁর শা’শুড়িকে। তাতে ফল হয় উল্টো। স্বামী শুনে তাঁকে বে’দ’ম প্র’হার করেন। বাড়ি থেকে বের হয়ে যান জেন সন্তানদের নিয়ে। চলে আসেন উমোজায়।

‘উমোজা’ সোয়াহিলি ভা’ষার শব্দ। অর্থ ‘একতা’। ১৫ নারীর যূ’থব’দ্ধতায় যাত্রা শুরু হয়েছিল এই গ্রামের। ১৯৯০ সালে। কে’নিয়ার সাম্বরু অ’ঙ্গরা’জ্যের আর্চার্স পোস্ট শহরের কাছে। রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় আড়াই শ মাইল দূরে। তাঁরা সবাই হয়েছিলেন ধ.র্ষ-ণে-র শি’কা’র। ব্রিটিশ সেনা’দের দ্বা’রা। সে ঘটনার পর সেখানকার পুরু’ষ’তা’ন্ত্রিক সমাজ তাঁদের ভা’লোভাবে গ্রহণ করতে পারেনি।

অথচ তাঁদের কোনো দো’ষ ছিল না। তাই তাঁরাই উল্টো সমা’জকে বুড়ো আঙু’ল দেখান। গড়ে তোলেন পু’রুষ’হীন এই গ্রাম। গ্রামটি প্রতিষ্ঠার মূল কা’রিগর রেবেকা লো’লো’সোলি। এ জন্য তাঁকে চ’ড়া মূ’ল্যও দিতে হয়েছিল। ‘আমি যখন এই ভাবনার কথা বাকি মেয়েদের বলতে শুরু করি, লোকজন ভী’ষণ খে’পে গিয়ে’ছিল। একদল লোক আমার ওপর চ’ড়াও হয়।

এমন মে’রে’ছি’ল যে আমাকে হাস’পাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। মে’রে আ’মাকে তারা ‘শিক্ষা’ দিতে চে’য়েছিল’, বলেন রে’বেকা। কিন্তু দমে যাননি তিনি। তাঁর নেতৃত্বে নি’র্যা’তি’তা ১৫ নারী যাত্রা শুরু করেন উমোজার। ধীরে ধীরে আশপাশে ছ’ড়িয়ে পড়ে পুরুষহীন গ্রামটির নাম।

হ্যাঁ, উমো’জায় কোনো পুরুষের প্রবেশাধিকার নেই। ছোট্ট গ্রামটার চারদি কাঁটার বেড়া দিয়ে ঘেরা। সেটা ডিঙিয়ে কোনো পুরুষ প্রবেশ করলেই তাকে চালান করা হয় স্থানীয় থা’নায়। শুনতে অ’দ্ভুত লাগলেও সেখানকার ভী’ষণ পু’রুষতা’ন্ত্রিক সমাজের মেয়েদের কাছে সেটার মাহা’ত্ম্য একেবা’রেই অন্য রকম। পুরুষ নেই মানে নারীর প্রতি স’হিং’সতা নেই, নি’র্যা’ত’ন নেই, ধ.র্ষ-ণ নেই।

আর তাই এক এক করে সেসবের শি’কা’র নারীরা এসে যোগ দিতে থাকে তাদের সঙ্গে। বাবা হয়তো টাকার বিনিময়ে বাচ্চা মেয়েকে তুলে দি’চ্ছিল কোনো বু’ড়োর হা’তে।কিংবা স্বামীর নি’র্যা’ত’ন থেকে পালিয়ে আসা কোনো মেয়ে বা ধ.র্ষ-ণে-র শি’কার। অথবা মেয়েকে ‘খ’তনা’র হাত থেকে বাঁ’চাতে চাওয়া মা। বর্তমানে তাঁদের সংখ্যা প্রায় অর্ধ’শত। আর তাঁদের সন্তান আছে শ দুয়েক।

অবশ্য সাম্ব’রুদের সব ঐ’তিহ্যই মন্দ নয়। যেমন তাদের গয়’নাগুলো দেখতে দারুণ সুন্দর। ভীষণ রংচ’ঙে। সেগুলোই উমোজার নারীদের আয়ের মূল উৎস। কাছেই আছে সাম্বরু ন্যা’শনাল রি’জার্ভ পার্ক। অসংখ্য পর্যটক যায় সেখানে। তারাই গ’য়নাগুলোর মূল খ’দ্দের। অনেকে আ’তি’থ্যও গ্রহণ করে। অবশ্যই টাকার বিনিময়ে। এর বাইরে রেবেকাদের আয়ের আরো একটা উৎস আছে।

অনুদান। তাদের এই সংগ্রা’মে একা’ত্মতা প্রকাশ করে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ টাকা পাঠান। এই সব টাকা জমা দেওয়া হয় রেবেকার কাছে। তিনি প্রয়োজন অ’নুযায়ী ভাগ-বা’টোয়ারা করে দেন সবার মধ্যে। এমনিতেই ব্যাপারটা এক অনন্য। সেটার মা’হা’ত্ম্য আরো বেড়ে যায় সেখানকার বাস্তবতা বি’বেচনায়। কারণ এখনো সা’ম্বরু’দের মধ্যে না’রীদের অর্থ উ’পার্জন করার সামাজিক মর্যা’দাটু’কুও নেই!

সেই স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে খু’শি’তে যেন নেচে ওঠেন নাগুসি। বেশ কিছুদিন ধরে উমোজায় আছেন তিনি। বলেন, ‘এখানে আমি অনেক কিছুই করতে পারছি, যেগুলো আমাদের সমাজে নারীদের জন্য একেবারে নি’ষি’দ্ধ। এই যেমন নিজের টাকা নিজেই উপা’র্জন করা। কোনো পর্যটক যখন আমার বানানো গয়না কেনে, গর্বে বুকটা ভরে যায়।’

শুধু টাকা উ’পার্জনেরই নয়, উমোজার নারীরা গড়ে তুলেছেন নিজেদের মতো একটা শি’ক্ষাব্যবস্থাও। আশপাশের গ্রামগুলোর মেয়েদের জন্য। তাদের নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাঠ দেন প্রবীণ ও অভিজ্ঞরা। এর মাধ্যমে গড়ে তুলছেন সামাজিক সচেতনতা। বিশেষ করে বাল্যবিয়ে ও মেয়েদের যৌনাঙ্গ ছাঁটার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ওখানে একটা স্কুলও খোলা হয়েছে। তাতে উমোজার বাচ্চারা তো বটেই, পড়তে আসে আশপাশের গ্রামের শিশুরাও।

সব মিলিয়ে উমোজা হয়ে উঠেছে নি’র্যা’তি’ত নারীদের আ’শ্রয়স্থল। সমাজে যে নারীদের জায়গা নেই, উমোজা তাদের দিচ্ছে নতুন জীবন। যেমন—রোজালিনা এখন পড়ছে কাছের একটা উচ্চ বিদ্যালয়ে। একাদশ শ্রেণিতে। স্বপ্ন দেখছে শিক্ষক হওয়ার। অথচ ওর জীবনটা থমকে যেতে পারত অনেক আগেই।

সে কথা অক’পটে স্বী’কার করে সে নিজেই, ‘এখানে না এলে আমি জানতেই পারতাম না জীবন কেমন হতে পারে। আমি তাই শিক্ষক হতে চাই। মেয়েদের শেখাতে চাই, রীতি আছে বলেই যৌনাঙ্গ ছাঁটার প্রয়োজন নেই।’ আর সার কথাটা বলে দেন জুডিয়া। তিনি এখানে এসেছেন বছর ছয়েক আগে। টাকার বিনিময়ে তাঁকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিলেন বাবা।

এখন তাঁর বয়স ১৯ বছর। বলেন, ‘প্রতিদিন সকা’লে ঘুম থেকে উঠলেই আমার মধ্যে একটা ভালো লাগা কাজ করে। কারণ চারপাশের সবাই আমার ভালো চায়। পরস্পরকে সাহায্য করে। অন্যত্র পুরুষরা না’রীদের নিয়ন্ত্রণ করে। তাই মেয়েরা চাইলেও কিছু করতে পারে না। কিন্তু উমোজায় নারীরা স্বাধীন।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021  dailymoon24.com
Theme Customized BY IT Rony