রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক করতে চায় উত্তর কোরিয়া কেন!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

এতে কিমের দেশ উত্তর কোরিয়া চাইছে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে।

পিয়ংইয়াং দী’র্ঘদিনের ‘বন্ধু’ চী’নের সঙ্গেও আরো ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছে।

 

উত্তর কোরিয়ার অফিসিয়াল গণমাধ্যম রোডং সিনমুন পত্রিকা অনুসারে, সোভিয়েত

ইউনিয়নের দ্বিতীয় বি’শ্বযু’দ্ধ জয়ের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর কোরিয়ার নেতা

কিম জং-উন ১৯ মে ভ্লাদিমির পুতিনকে অভিনন্দন বার্তা প্রেরণ করেছেন।

 

উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতার পক্ষে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার

প্রেসিডেন্টকে এই জাতীয় বার্তা পাঠানো হয়েছে। বার্তায় কিম জং-উন ফ্যাসিবাদকে

‘ধ্বং”স করার জন্য ন্যা’য়বিচারের যু’দ্ধে জয় লাভের জন্য রাশিয়ার প্রশংসা করেছিলেন।

 

তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সাধারণ শত্রুদের বি’রুদ্ধে যু’দ্ধে কমরেড-ইন-আর্মস

মনোভাবে নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। যা দু’দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামরিক

সম্পর্কেরও ইঙ্গিত দেয়। তিনি শ’ক্তিশা’লী রাশিয়া গড়ার সংগ্রাম ও করোনা মহামারি

 

মোকাবেলার লড়াইয়ে পুতিন এবং তার জনগণের নিশ্চিত বিজয় কামনা করেছেন।

কিম স্পষ্টতই রাশিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন।

১৫ মে উত্তর কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম ডিপিআরকে টুডেও পিয়ংইয়াং ও মস্কোর মধ্যকার

 

বন্ধুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কমরেড-ইন-আর্মসের মনোভাব নিয়ে

গড়ে ওঠা বন্ধুত্বে মধ্যে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে আরো ভালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত

করছে দুই দেশ। সাধারণত উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমগুলো সরকারের বি’রুদ্ধে গিয়ে

 

কোনো বক্তব্য প্রচার করে না। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠছে, তাহলে কি দেশটির

সরকারও চায় রাশিয়ার সঙ্গে ভালো স’ম্পর্ক তৈরি করতে?

তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা

 

বিবেচনা করছে উত্তর কোরিয়া। তৃতীয় উত্তর কোরিয়া-মার্কিন সম্মেলন হবে হয়তো।

ভবিষ্যতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর

কোরিয়াকে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে কয়েকদিন আগে।

 

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন হলে পিয়ংইয়াংয়ের একরকম লাভই হবে।

তবে এখনও অবধি উত্তর কোরিয়া সামরিক উসকানি, দূরপাল্লার ‘ক্ষে’পণা’স্ত্র উৎক্ষেপণ

বা পা’রমা’ণ’বিক অ’স্ত্রে’র পরীক্ষা চালিয়েই যাচ্ছে। যা মোটেই ভালো চোখে দেখছে না মার্কিন সরকার।

 

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা যাদি আর কার্যকর না হয়; তবে কূটনৈতিক

কৌশল অবলম্বন করা ছাড়া উত্তর কোরিয়ার আর কোনো উপায় থাকবে না।

এরপর পিয়ংইয়াং চীন ও রাশিয়াকে ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের

 

চেষ্টা করতে পারে। এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াও উত্তর কোরিয়ারও দ্রুত রাশিয়ার সঙ্গে

বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরি করা দরকার। করোনা প্রা’দুর্ভা’বের পরে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত

বাণিজ্য মা’রা’ত্মক’ভাবে স’ঙ্কু’চিত হয়ে পড়েছে। আর এই বিষয়টি উত্তর কোরিয়ার

অর্থনীতিতে মা’রা’ত্মক’ভাবে আ’ঘা’ত হে’নেছে।

 

এদিকে আবার মস্কোর দিকে ঝুঁ’কে পড়ার আরো একটি কারণ রয়েছে উত্তর কোরিয়ার।

দেশটির অনেক শ্রমিক কাজ করে রাশিয়ার নির্মাণ সাইট ও খামারসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে।

উত্তর কোরিয়া সম্ভবত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে আরো অনেক

 

শ্রমিক রপ্তানি করবে বলে আশাবাদী। তাই হয়তো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি আরো মজবুত করতে চায়।

রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টার করার পেছনে আরো একটি কারণ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থগিত পা’রমা’ণবিক আলোচনা ও নি’ষেধা’জ্ঞার বিষয়টি নিয়ে দর

 

কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়াকে পাশে চাইছে পিয়ংইয়াং। কারণ এর আগে

উত্তর কোরিয়ায় মার্কিন নি’ষেধা’জ্ঞা শিথিলের ওপর জোর দিয়েছিলেন রু’শ প্রেসিডেন্ট

ভ্লাদিমির পুতিন। তাই হয়তো পিয়ংইয়াংও চাইছে রাশিয়াকে পাশে নিয়ে নিজের পাল্লা ভারী করতে।

সূত্র: কেবিএস নিউজ।

 

Check Also

নিঃস্ব হওয়ার পথে ভারত!

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, ভারতে প্রতি সেকেন্ডে চারজন করে নতুন করো’না রোগী শনা’ক্ত হচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *