1. tahsanrakibkhan2@gmail.com : admin :
  2. dailymoon24@gmail.com : Fazlay Rabby : Fazlay Rabby
রোনালদোর খেলা দেখে জ্ঞান হারাতেন মা - Daily Moon
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

রোনালদোর খেলা দেখে জ্ঞান হারাতেন মা

ফজলে রাব্বি
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১
  • ১৩ View

নেইমা’রের সঙ্গে একই দিনে জন্ম’দিন হলেও ফুটবলীয় অর্জনে রোনালদোর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি। পর্তুগালের মা’দেইরা দ্বীপপুঞ্জে জন্ম গ্রহণ করা রোনালদো রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো দলকে নেতৃত্ব

দিচ্ছেন। রেকর্ড পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী এই ফুটবলার অনেকের চোখেই বিশ্বসেরা নতুন খবর হচ্ছে, রোনালদো কীভাবে ‘রোনালদো’ হয়ে উঠলেন? পড়ুন স্বয়ং পর্তুগালের এই অধিনায়কের লেখায়।

দ্য প্লেয়ারস ট্রিবিউনে ‘মা’দ্রিদ: মাই স্টোরি’ শিরোনামে নিবন্ধটি লিখেছিলেন তিনি। ৭ বছর বয়সের একটা স্মৃ’তি খুব মনে পড়ে। স্মৃ’তিটা এতই পরিষ্কার যে, আমি এখনো চোখ বুজে দেখতে পাই, উষ্ণতাটা অনুভব করি।

তখন মাত্রই আমি সত্যিকার ফুটবল খেলা শুরু করেছি। মা’দিরার রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলতাম। রাস্তা বলতে আমি কিন্তু একটা ফাঁ’কা, পরিত্য’ক্ত রাস্তা বোঝাচ্ছি না। সত্যিকার অর্থেই—একটা রাস্তা। আমা’দের খেলায় গোল বলে কিছু ছিল না। রেফারির বাঁশির শব্দে নয়, হঠাৎ কোনো গাড়ি এলে খেলায় বিরতি পড়ত। প্রতিদিন এই করে বেশ আনন্দেই

সময় কাটছিল। আমি খুশি ছিলাম। কিন্তু আমা’র বাবা এতে সন্তু’ষ্ট ‘হতে পারেননি। তিনি চেয়েছিলেন, আমি যেন মাঠে গিয়ে তরুণ দলের সঙ্গে খেলি। জানতাম, আমি ভালো খেললে তিনি গর্বিত হবেন। অতএব আমা’র পথচলা শুরু হলো।

প্রথম দিন অনেক নিয়মই বুঝতে পারছিলাম না; কিন্তু ভালো লাগছিল। জয়ের নে’শা আমাকে পেয়ে বসেছিল। বাবা প্রতি ম্যাচেই সাইড লাইনে বসে থাকতেন, তিনি আমা’র খেলা ভালোবাসতেন। কিন্তু আমা’র মা আর বোনের

ফুটবল নিয়ে কোনো আগ্রহ ছিল না। অতএব প্রতি রাতেই বাবা তাঁদের আমা’র খেলা দেখতে উৎসাহিত করার চে’ষ্টা করতেন; যেন তিনি আমা’র প্রথম ‘এজেন্ট’! মনে আছে বাড়ি ফিরেই বাবা বলতেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আজকে একটা গোল করেছে!’

তারা নিরুত্তাপ গলায় বলত, ‘ভালো।’

পরদিন বাড়ি ফিরে বাবা আবার বলতেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আজ দুটো গোল করেছে!’

সেই একই নিরুত্তাপ কণ্ঠস্বর, ‘খুব ভালো ক্রিস।’

একের পর এক গোল করে যাওয়া ছাড়া আমা’র কিছু করার ছিল না।

এক রাতে বাড়ি ফিরে বাবা ভীষণ উত্তেজিত হয়ে বললেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আজ তিন গোল করেছে! এটা অবিশ্বা’স্য! তোমা’দের ওর খেলা দেখা উচিত!’

পরদিনও সাইড লাইনে দেখলাম বাবাকে, একা। তারপর একদিন…দৃশ্যটা আমি কখনো ভুলব না…আমি তখন খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, দেখলাম মাঠের পাশে একটা বেঞ্চে আমা’র মা আর বোন একসঙ্গে বসে আছে। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল…কীভাবে বলি? মনে হচ্ছিল, তারা খুব আরাম করে বসেছে। বেশ গু’টিসুটি মে’রে। তারা তালি দিচ্ছিল

না, চিৎকার করছিল না। আমাকে দেখে এমনভাবে হাত নাড়ল, যেন আমি একটা কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছি। মোট কথা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, ওরা জীবনে কখনো ফুটবল ম্যাচ দেখেনি। কিন্তু তারা যে এসেছিল, এটাই আমা’র কাছে সব।
বিজ্ঞাপন

সেই মুহূর্তে ভীষণ ভালো লাগছিল। যেন আমা’র ভেতরে একটা মোচড় অনুভব করলাম। তখন আমা’দের তেমন টাকাপয়সা ছিল না। জীবন ছিল একটা যু’দ্ধ। বড় ভাই কিংবা কাজিনরা যেই পুরোনো জুতোগু’লো আমাকে দিত, সেগু’লো পরে খেলতাম। ছেলেবেলায় মানুষ টাকাপয়সা নিয়ে ভাবে না, সে বয়সে আনন্দটাই সব। সেই

দিনগু’লোতে আমি মনের খুব গভীর থেকে আনন্দ টের পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল আমা’র কোনো ভয় নেই, কিছু মানুষের ভালোবাসা আমা’র সঙ্গে আছে। পর্তুগিজ ভাষায় আমর’া বলি, ‘মেনিনো কুয়েরিদো দা ফ্যা’মিলিয়া।’
অ’সহ্য একেকটা দিন

ঘটনাটা মনে পড়লে আজও স্মৃ’তিকাতর হই। কারণ, মনে হয় জীবনের সেই মুহূর্তগু’লো খুব দ্রুত চলে গেছে। ফুটবল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। কিন্তু এই ফুটবলই আমাকে বাড়ি থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে, আমি পুরোপুরি তৈরি হওয়ার আগেই। ১১ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে স্পোর্টিং লিসবোন একাডেমিতে চলে আসি। এটা আমা’র জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।

প্রায় প্রতিদিনই কাঁদতাম। আমি পর্তুগালেই ছিলাম, অথচ মনে ‘হতো আমি একটা অন্য দেশে চলে এসেছি। আশপাশের মানুষের উচ্চারণ শুনে মনে ‘হতো, তারা যেন সম্পূর্ণ একটা অন্য ভাষায় কথা বলছে। সংস্কৃতিটা ভিন্ন ছিল। কাউকে চিনতাম না। খুব একা লাগত। আমা’র পরিবারের যা সামর’্থ্য, তাতে চার মাসে একবারের বেশি আমাকে দেখতে আসা তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। বাড়ির মানুষগু’লোকে এত বেশি মিস করতাম যে, প্রতিটা দিন অ’সহ্য মনে ‘হতো।

সে সময় ফুটবলই আমাকে ক’ষ্ট ভুলে থাকতে সাহায্য করেছে। মাঠে আমি যেভাবে খেলছি, একাডেমির অনেক ছেলেমেয়েই আমা’র মতো পারে না, এ বি’ষয়টা আমি বুঝতাম। এখনো মনে আছে, আমা’র সতীর্থ একটা ছেলে আরেকটা ছেলেকে বলছিল, ‘ও কীভাবে খেলে দেখেছ? যেন একটা জানোয়ার!’

এসব শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এমনকি কখনো কখনো কোচরাও বলতেন। আবার এ কথাও শুনতে ‘হতো, ‘বটে…তবে ও একেবারেই বাচ্চা।’

সত্যি। আমি খুব শুকনা ছিলাম। সুগঠিত পেশি ছিল না। অতএব ১১ বছর বয়সেই একটা সি’দ্ধান্ত নিয়েছিলাম। জানতাম আমা’র মেধা আছে, কিন্তু আমি অন্য সবার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করার সি’দ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ঠিক করেছিলাম, আমি ছোট ‘হতে পারি, কিন্তু আমি ছোটদের মতো খেলব না। আমি যেন পৃথিবীর সেরা ‘হতে পারি, সেভাবেই নিজেকে তৈরি করতে শুরু করলাম।

জিতলেও পেট ভরে না

জানি না কোথা থেকে এই জেদ আমা’র মাথায় ভর করেছিল। এটা এমন এক ক্ষুধা, যা কখনোই নিবারণ হয় না। হেরে গেলে মনে হয় আমি ক্ষুধার্ত। এমনকি জিতলেও মনে হয় পেট ভরেনি।

ব্যায়াম করার জন্য রাতে গোপ’নে ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে পড়তাম। ধীরে ধীরে আমি বড় ‘হতে থাকলাম, গতি বাড়তে লাগল। এরপর আমি যখন মাঠে নামতাম, আমাকে ‘বাচ্চা’ বলা ছেলেগু’লো এমনভাবে তাকাত যেন পালানোর পথ খুঁজে পাচ্ছে না। ১৫ বছর বয়সে আমা’র কিছু সতীর্থকে একটা কথা বলেছিলাম। পরিষ্কার মনে আছে। বলেছিলাম, ‘দেখো, আমি পৃথিবীর সেরা হব।’ ওরা হেসেছিল। তখনো আমি স্পোর্টিংয়ের এক নম্বর দলটাতে জায়গা পাইনি, তবু বিশ্বা’স ছিল।

১৭ বছর বয়সে যখন পেশাদার ফুটবল খেলা শুরু করলাম, আমা’র মা এই চাপ নিতে পারত না। আমা’র খেলা দেখতে এলে একাধিকবার জ্ঞান হারাত। সত্যি বলছি, আক্ষরিক অর্থেই জ্ঞান হারাত। শুধু আমা’র খেলার জন্যই চিকিৎসক মাকে ঘু’মের ওষুধ দেওয়া শুরু করেছিলেন। তখন আমি মাকে বলতাম, ‘মনে আছে, একসময় তুমি ফুটবলের কিছুই বুঝতে না?’

আমা’র স্বপ্ন বড় থেকে আরও বড় হচ্ছিল। জাতীয় দলে খেলব, ম্যানচেস্টারে খেলব…সারা দিন টিভিতে প্রিমিয়ার লিগ দেখতাম। প্রচণ্ড দ্রুত গতির খেলা, গ্যালারিতে দর্শকের গান—এসব আমাকে রোমাঞ্চিত করত। ম্যানচেস্টারে খেলা শুরু করার পর আমি যতটা গর্ব অনুভব করলাম, তার চেয়ে বেশি গর্বিত হলো আমা’র পরিবার।

সূত্র, প্রথম আলো

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021  dailymoon24.com
Theme Customized BY IT Rony