শেখ হাসিনায় কেন আস্থা মোদির

শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় এলেন। বঙ্গব’ন্ধুর জ’ন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২৬শে

মা’র্চ অনুষ্ঠানে তিনি ভাষণও দিলেন। এই ভাষণে তিনি বাংলাদেশ-ভারত স’স্পর্কের নতুন বার্তা দিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন। রাজনৈতিক অ’ঙ্গনে একটি বড় প্রশ্ন

হল যে ঝুঁ’কি নিয়েও নরেন্দ্র মোদি কেন বাংলাদেশে এলেন। একাধিক ঝুঁ’কি ছিল তার বাংলাদেশ সফর

 

নিয়ে। প্রথমত, হ’ঠাৎ করেই বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করো’না র প্রকোপ বৃ’দ্ধি পেয়েছে। এই করো’না র

প্রকোপ বৃ’দ্ধির কারণেই গত বছর মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদির সফর বা’তিল করা

 

হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল ধ’র্মান্ধ গোষ্ঠীর আস্ফালন। এরকম অবস্থার

প্রেক্ষিতে নি’রাপত্তার অজুহাতে নরেন্দ্র মোদির সফর বা’তিল হতেই পারতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র

 

মোদি বাংলাদেশে এসেছেন এবং এই সফরের মধ্য দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ করে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন। প্রশ্ন হলো যে নরেন্দ্র মোদী কেন শেখ

 

হাসিনার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং আস্থা জা’নাচ্ছেন। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে ভারতের

প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুজন বিপরীত মেরুতে অব’স্থান

 

করেন। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একটি উগ্র মৌলবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষ করে দ্বিতীয় মে’য়াদে নরেন্দ্র মোদী হিন্দুত্ববাদ এবং উগ্র জাতীয়তাবাদকে উস্কে দিচ্ছেন এমন

অ’ভিযোগ ভারতের মধ্যেই করা হচ্ছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনা উদার গণতান্ত্রিক একজন বিশ্বনেতা।

 

তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় যেমন বিশ্বা’স করেন, তেমনি বহুমত এবং বহু পথের রাজনীতিকে সচল

রাখতে চান। আর এ কারণেই নরেন্দ্র মোদি যখন প্রথমবারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত

হয়েছিলেন তখন বাংলাদেশের অনেকে উল্লসিত হয়েছিল। তারা মনে করেছিল, বিজেপির ক্ষ’মতায়

 

আসার মধ্য দিয়ে চা’পে পড়বে আওয়ামী লীগ। কংগ্রেসের স’ঙ্গে আওয়ামী লীগের যে ঐতিহাসিক

স’স্পর্ক সেই স’স্পর্কের সূত্র ধ’রেই ২০১৪ নির্বাচনকে সমর্থন করেছিল ভারত। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি এসে

বাংলাদেশের স’ঙ্গে স’স্পর্ক পুনর্বিন্যাস করবেন, আওয়ামী লীগের মতো একটি উদার গণতান্ত্রিক,

 

অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলের স’ঙ্গে বিজেপি স’স্পর্ক রাখবে কিনা সেটিও ছিল আলোচনার বিষয়।

কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনা পাল্টে দিয়ে নরেন্দ্র মোদির সেই সময় শেখ হাসিনার প্রতি তার অকুণ্ঠ সমর্থন

জা’নান। গত সাত বছরে শেখ হাসিনার প্রতি নরেন্দ্র মোদির আস্থা এতটুকুও ফাটল ধ’রেনি। প্রশ্ন হচ্ছে

 

কেন শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে,

একাধিক কারণে শেখ হাসিনার প্রতি তারা আস্থা। প্রথমত, বি’চ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যাপারে শেখ হাসিনার

ক’ঠোর অব’স্থান। শেখ হাসিনাই ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি ক্ষ’মতায় এসে ভারতীয়

 

বি’চ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য বাংলাদেশকে নিষি’দ্ধ ক’রেছেন। কোনভাবেই এইসব বি’চ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়

প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে না, এটা ভারত স’বচেয়ে ভালো জানে। দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা যেটি বলে সেটি করেন।

শেখ হাসিনার রাজনীতিতে কোন মিথ্যাচার নেই এবং কূটকৌশল নেই। তিনি যেটা বিশ্বা’স করেন সেটা

 

বলেন এবং যেটি বলেন সেটি করেন। এর ফলে স’বচেয়ে লাভ হয় পাশের প্রতিবেশী ভারতের। কারণ এই

রকম একজন রাজনৈতিক ব্য’ক্তিত্বের স’ঙ্গে বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে মীমাংসা করাটা সহজতর হয়।

তৃতীয়ত, শেখ হাসিনার উদারতা। শেখ হাসিনা সবসময় স’স্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উদার। তিনি জটিলতার

 

মধ্যে না গিয়ে আন্তরিকতার স’ঙ্গে স’মস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।আর এই সমস্ত কারণেই নরেন্দ্র মোদির

আস্থা শেখ হাসিনায়। কারণ ভারত খুব ভালো করে জানে যে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা কোন বিকল্প নেই।

আর শেখ হাসিনা না থাকলে বাংলাদেশের স’ঙ্গে ভারতের বিভিন্ন স্প’র্শকাতর বিষয়গুলো সমাধান করা

অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়বে।

 

 

Check Also

মুনিয়ার অতীতের সব জানালেন তার বোন নুসরাত তানিয়া

মুনিয়াদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা শহরের মনোহরপুর উজির দিঘির দক্ষিণ পাড়ে। সেখানে মুনিয়াদের পৈত্রিক একতলা পাকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *