সন্তানদের হাতে মা’র খেয়ে হাসপাতালে আসবো কখনো ভাবিনি’

সন্তানের সুখের জন্য মা-বাবা জীবন দিয়ে দিতে পারেন। নিশ্চিন্তে নিজের সর্বস্ব

বিলিয়ে দিতে পারেন সন্তানের জন্য। কিন্তু প্রতিদানে সন্তান কী করতে পারেন?

মা-বাবার এই ভালোবাসার মূল্য সব সন্তান কি দিতে পারেন? কঠিন সত্য হলো, পারেন না।

 

প্রতিদানে কেউ কেউ মা-বাবাকে চরম অবহেলা করেন। কখনো কখনো শারীরিক

নি’র্যা’ত’ন করতেও কুণ্ঠা বোধ করেন না। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরেও এমনি একটি ঘটনা ঘটেছে।

বৃদ্ধ মা-বাবার শেষ সম্বল নিজের হাতে নিয়ে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে এক মেয়ে ও সন্তানরা।

শেষ সম্বল বসত-ভিটা বিক্রি করে নিজের সমস্ত পুঁজির টাকা নিজের মেয়ের হাতে

তুলে দিয়েও রক্ষা পেলেন না আব্দুল আহাদ (৮৫) ও তার স্ত্রী দিলবাহার (৭৫)।

আ’হত অবস্থায় বর্তমানে তাদের আশ্রয় হয়েছে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

 

গত রোববার রাত ৮টায় তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুড়া

শান্তিপুর গ্রামে ঘটেছে এমন নি’র্ম’ম ঘটনা। বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুড়া শান্তিপুর গ্রামের

বাসিন্দারা জানান, বৃদ্ধ আব্দুল আহাদের দুই ছেলে তাদের রেখে অন্যত্র কাজ করে জীবনযাপন করেন।

ফলে বৃদ্ধ মা-বাবা লোহাচুড়া গ্রামের ৩শতক জায়গায় বসবাস করে আসছিলেন।

যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথরের নৌকায় লোড-আনলোডের কাজ করে যে টাকা

আয় হতো তা দিয়েই চলছিল কোনো রকমে বৃদ্ধ দম্পতির। এ অবস্থায় বৃদ্ধের ৩

শতক বসতভিটার উপর নজর পড়ে মেয়ে শফিকুন নাহার বেগমের।

 

দুই বছর আগে শফিকুন নাহার বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে নানাভাবে বুঝিয়ে ৩শতক

জমি বিক্রি করার ব্যবস্থা করেন। এরপর ৭০হাজার টাকাসহ মা-বাবাকে তার স্বামীর

বাড়িতে আজীবন লালন পালনের শর্তে নিয়ে যান। কিন্তু সম্প্রতি বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ কোনো

রকম আয়-রোজগার করতে না পারায় প্রায়ই মেয়ে শফিকুন নাহার মা-বাবার সাথে ঝগড়া শুরু করেন।

এরই ধারাবাহিক গত রোববার রাত ৮টায় মেয়ে শফিকুন নাহার বেগম ও তার মেয়ে,

ছেলে মাকছুরা, মুছাব্বির মিলে অমানবিকভাবে তাদের মা’র’ধ’র করে ও ঘর থেকে

বের করে দেয়। এমনকি বসতঘর ভাঙচুর করে বিছানাপত্রও ঘরের বাহিরে ছুড়ে ফেলে দেয়।

 

এই বিষয়ে আ’হত বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ (৮৫) ও তার স্ত্রী দিলবাহার (৭৫) বলেন,

“নিজ পুলাপাইনের হাতে মা’ইর খাইয়্যা হাসপাতালে আইমু জীবনেও ভাবছিনা।

আমার অখন ভিটেমাটি ছাড়া খাওয়ারও কোন যোগাড় নাই“।

এমতাবস্থায় বাকি জীবনটুকু বাঁচাতে তারা সরকারের সহায়তা চান। এ বিষয়ে মেয়ে

শফিকুন নাহার বেগম বলেন, আমরা দুই বোনে ঝগড়াঝাটি করলে মা-বাবা আমার

ছোট বোনের পক্ষে থাকেন। মা-বাবাকে আমি মা’রধর করিনি। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা করেছে।

 

বালিজুড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ একরামুল হক বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার সম্পত্তি

বিক্রি করে টাকাসহ মেয়ে শফিকুন নাহার বেগম আজীবন লালন পালনের জন্য তার বাড়িতে

এনেছিলেন। কিন্তু রোববার রাতে যেভাবে আব্দুল হক ও তার স্ত্রীকে মা’রধর করেছে

 

সেটা বলার ভাষা আমার নেই। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও

ডাঃ ইকবাল হোসেন বলেন, রোববার রাতে লোহাচুরা শান্তিপুর গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ

ও তার স্ত্রী গুলবাহারকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদেরকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধপত্র দেয়া হচ্ছে।

Check Also

ধর্ম নিয়ে রুচিহীন প্রশ্ন বন্ধ হোকঃ বিব্রত চঞ্চল চৌধুরী

বাংলা নাটকের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চঞ্চল চৌধুরী। এই পর্যন্ত ভিন্নধর্মী অভিনয় করে ভক্তদের হৃদয়ের মণিকোঠায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *