সরকারিকৃত হাইস্কুলের শিক্ষকদের বুকফাটা কান্না

দেশের সরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য খসড়া তালিকা প্রকাশ এবং বেসরকারি স্কুল-

কলেজের এমপিও নীতিমালা-২০২১ জারি করেছে সরকার। মুজিববর্ষে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক

 

শিক্ষাক্ষেত্রে সু-বাতাস বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পর হলেও সরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকদের

পদোন্নতির কার্যক্রমের আওতায় খসড়া তালিকা প্রকাশ ও বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিও

 

নীতিমালা জারি করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, সরকারিকৃত হাইস্কুলের আত্তীকৃত শিক্ষক

সংগঠনের নেতারা। পাশাপাশি সরকারিকৃত হাইস্কুলের আত্তীকৃত শিক্ষকদের অনতিবিলম্বে পদোন্নতির

 

ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন, যশোর জেলা আত্তীকৃত সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির

নেতারা। সমিতির যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম ফারুক আহমেদ দৈনিক

 

শিক্ষাডটকমকে জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। এ সরকারের আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে

আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। আগামীতে আরও সুখবর ঘটতে চলেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণে

 

দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে হাইস্কুল ও একটি করে কলেজকে সরকারিকরণ করেছেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সরকারিকরণের পর হাইস্কুলে কর্মরত আত্তীকৃত শিক্ষকদের

 

পদোন্নতিতো দূরের কথা, বেসরকারি আমলের সিনিয়র শিক্ষকদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে অ্যাডহক

নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া তাদের বেতনস্কেলও নবম গ্রেড থেকে নামিয়ে দশম গ্রেডে দেয়া হয়েছে।

 

ইতোমধ্যে অনেক সিনিয়র শিক্ষক সহকারী শিক্ষকের পদ নিয়ে পিআরএল এবং অবসরে চলে গেছেন।

তিনি আরও জানান, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের

 

এই দেশে সবচেয়ে অবহেলিত সরকারিকৃত স্কুলের আত্তীকৃত এসব শিক্ষকরা। চলতি “মুজিববর্ষে”

১৯৮৩বিধি অনুযায়ী আত্তীকৃত সরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকদের বেসরকারি আমলে কর্মরত চাকুরির

 

অভিজ্ঞতা ৫০ শতাংশ হিসেবে গণনা করে অতি দ্রুত পদোন্নতিসহ তাদের অন্যান্য ন্যায্য দাবি

বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। গত ২৩ আগস্ট-২০১৭ তারিখে সরকারিকরণকৃত অভয়নগর

 

উপজেলার নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মাদ শাফায়েত

হুসাইন জানান, ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৩৫বছর ধরে শিক্ষকতা করে সহকারী শিক্ষক হিসাবে বর্তমানে

পিআরএল-এ আছি।

 

চাকুরি স্থায়ীকরণ না হওয়ায় পিআরএল-এ যাওয়ার পর অর্থাৎ ২০সেপ্টেম্বর-২০২০ তারিখ থেকে অদ্যাবধি

৬ মাস ধরে বেতন-ভাতা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও জানান, চাকুরি সরকারি হয়ে কী লাভ

হলো? সেটা বুঝতে পারছি না। বেসরকারি আমলে শিক্ষকতায় ছিলাম সিনিয়র শিক্ষক পদে, চাকুরি

 

সরকারি হয়ে যোগদান করলাম সহকারী শিক্ষক পদে, ৩৫বছর পর পিআরএল-এ গেলাম সহকারী শিক্ষক

হয়ে। তাছাড়া বিগত ৬ মাস ধরে বেতনভাতা পাইনা। পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্থাভাবে মানবেতর

জীবনযাপন করে চলেছি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাকুরি স্থায়ী না হওয়ায় সরকারিকরণকৃত ওই স্কুলের

 

সিনিয়র শিক্ষক জয়নাল আবেদীন নামের আরও একজন এবং ২জন কর্মচারীও পিআরএল-এ গিয়ে

একই অবস্থা বিরাজ করছে তাদের পরিবারে। আত্তীকৃত সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির যশোর জেলা

শাখার সভাপতি মো.সহিদুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, সরকারিকৃত এসব স্কুলের শিক্ষক-

 

কর্মচারীদের চাকুরির অভিজ্ঞতা ৫০ শতাংশ হিসাবে গণনা করে অতি দ্রুত তাদের পদোন্নতি, চাকুরি

স্থায়ীকরণের ব্যবস্থা, শিক্ষক-কর্মচারীদের বন্ধ থাকা বেতন-ভাতাদি অতি দ্রুত ছাড়করণসহ তাদের

মর্যাদা সমুন্নত রাখার জোর দাবি জানান।

 

 

Check Also

নিঃস্ব হওয়ার পথে ভারত!

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, ভারতে প্রতি সেকেন্ডে চারজন করে নতুন করো’না রোগী শনা’ক্ত হচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *