সরকারের কৌশলে লন্ডভন্ড হেফাজত!

কদিন আগেও হেফাজতের হুংকারে মানুষ ভয় পেত। সাধারণ মানুষ মনে করতো নতুন কোনো

সংকট আসছে নাকি? হেফাজতের উত্থানের অনেকে আত’ঙ্কিত হয়ে পড়েছিলো। কিন্তু এখন

 

হেফাজত যেন মিনমিনিয়ে কথা বলছে। হেফাজতের কথাবার্তার মধ্যে সেই হুংকার নেই বরং

এক ধরনের পরাজিত নিস্তেজ ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,

 

সরকারের কৌশলে হেফাজত নিস্তেজই শুধু হয়নি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। হেফাজতের মধ্যে

যেমন অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র হয়েছে তেমনি অনিশ্চয়তার সংকট বেড়েছে হেফাজতের

 

মধ্যে। সরকারের যে সমস্ত কৌশলে হেফাজত বিপর্যস্ত এবং লন্ডভন্ড হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, ১.

আবাসিক কওমি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত: সরকার আবাসিক কওমি মাদ্রাসা বন্ধের যে সিদ্ধান্ত

 

নিয়েছেন তা হেফাজতকে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত করেছে। কারণ হেফাজতের নেতারা এই মাদ্রাসার

শিক্ষার্থীদেরকে পুঁজি করেই নিজেদের আখের গুছিয়ে নেন। এখন যখন মাদ্রাসাগুলো বন্ধ হবে, বিশেষ

 

করে রোজার মধ্যে যখন মাদ্রাসা বন্ধ হবে তখন তাদের আয় উপার্জনের একটি বড় পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

ইতিমধ্যে হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী গতকাল প্রকাশ্যেই বলেছেন যে মাদ্রাসা দান-খয়রাতের

 

ওপর চলে। রোজাই তাদের দান-খয়রাত পাওয়ার সবচেয়ে বড় সময়। এই সময় যদি কওমি মাদ্রাসা বন্ধ হয়

তাহলে একটি বিপর্যস্ত অবস্থা হবে। আবার এই কওমি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত হেফাজতের ওপর বাড়তি

 

চাপ সৃষ্টি করছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মনে করছেন যে, হেফাজতের নেতাদের বাড়াবাড়ির জন্যই

সরকার মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্য তারা হেফাজতকেই দুষছেন। ফলে এক ধরনের উভয়

 

সং’কটে প’ড়েছে হে’ফাজত। ২. সুনির্দিষ্ট অভি’যোগের বিরুদ্ধে গ্রেফ’তার: সরকার হেফাজতের ব্যাপারে

একটি পরিকল্পিত কৌশল গ্রহণ করেছেন। সরকার কখনোই হেফাজতের বিরুদ্ধে আ’গ্রাসী মনোভাব

 

দেখিয়ে প্রথম ধাক্কায় সব বড় বড় নেতাদেরকে গ্রে’ফতার করেনি বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বেছে

বেছে গ্রেফতার করছে। আল্লামা শফীর মৃত্যুর বিষয়টিও সরকার ঠান্ডা মাথায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ

করে তদন্ত করেছে। তদন্তের ব্যাপারে পিবিআই এর একটি নিরপেক্ষ ইমেজ আছে। পিবিআই এর তদন্তের

 

মাধ্যমে আল্লামা শফীর হত্যাকাণ্ডের জন্য বাবুনগরী এবং মামুনুল হক অভিযুক্ত হয়েছে। এটি হেফাজতের

মধ্যে সুস্পষ্ট বিভক্তি আনবে এটি নিশ্চিত করেই বলা যায়। এর ফলে হেফাজত সাংগঠনিকভাবে শুধু দুর্বল

নয় বিভক্ত হয়ে পড়বে। যাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় এটি

 

নিয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ করছেন না এবং হেফাজতও এটিকে উচ্চবাচ্য করার সাহস পাচ্ছে না। ৩.

মামুনুল কাণ্ড: এক মামুনুলই হেফাজতকে ল’ন্ডভ’ন্ড করে দিয়েছে বলে হেফাজতের নেতারাই মনে

করেন। মামুনুলের পর’কী’য়া, ব্য’ভিচা’র, একাধিক বিয়ে নিয়ে এখন পুরো দেশে তোলপাড় চলছে। এটি

 

হেফাজতের যে আদর্শ এবং নীতিকে বিপর্যস্ত করেছে বলে হেফাজতের নেতারাই স্বীকার করছেন। সরকার

মামুনুলকে উন্মো’চনের ক্ষেত্রে যে সাফল্য দেখিয়েছে সেই কৌশলে হেফাজত পরাজিত হয়েছে। এখন

মামুনুলদের মুখ দেখানোর জায়গা নেই বলেই মনে করছেন অনেকে। ৪. জনমত তৈরি: সরকার

 

সফলভাবে হেফাজতের বিরুদ্ধে একটা জনমত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে ২৬ এবং ২৭

মার্চ হেফাজত সারাদেশে যে তাণ্ডব করেছে সেই তাণ্ডবের ব্যাপারে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং এজন্য

হেফাজতকে দায়ী করেছে। পাশাপাশি রয়েল রিসোর্টে ভাংচুরের ঘটনাটিও মানুষ সহজভাবে নেয়নি। এর

 

ফলে হেফাজত ক্ষ’তিগ্র’স্ত হয়েছে। ৫. আলেম-ওলামারা হেফাজতের বিরুদ্ধে: সরকারের কৌশলের

কারণে দেশের আলেম সমাজ হেফাজতের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং আলেম সমাজ প্রকাশ্যে

হেফাজতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এটি হেফাজতের জন্য অস্বস্তিকর এবং বিব্রতকর হয়েছে। হেফাজত

 

যে প্রকৃত ইসলাম না, এটি প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। আর এর কারণেই এখন

হেফাজতের ব্যাপারে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের আর আবেগ অনুভূতি কাজ করছে না। আর এই সরকারের

কৌশলের কারণেই সংগঠন হিসেবে লন্ডভন্ড এবং অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে হেফাজত।

 

 

Check Also

কারামুক্ত হাজী সেলিমের ছে’লেকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ

অবশেষে সব মা’মলায় জামিনে নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এলেন সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্ম’দ সেলিমের ছে’লে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *