Breaking News

স্বপ্ন দো’ষ কিংবা বমি হলে রোজা ভাঙ’বে কি?

প্রশ্ন : স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙবে কি না?

উত্তর : সিয়াম’রত আবস্থায় যদি কারো স্বপ্নদোষ হয়, তাহলে তার সিয়াম ন’ষ্ট হবে না, যেহেতু তার অনিচ্ছায় এ কাজটি হয়েছে।

 

যে কোনো আমলের মধ্যে যদি ইচ্ছেকৃত বিষয় না থাকে বা অনিচ্ছাকৃত কোনো আমল বান্দার কাছ থেকে হয়ে যায়,

এটা যদি সিয়াম ভঙ্গকারী হয়ে থাকে, তাহলে এর মাধ্যমে সিয়াম ন’ষ্ট হয় না।

রমাদান প’রিকল্পনা ॥

এ বছর রমাদানের শুরুতেই, আপনার যাকাত আদা’য়ের প’রিকল্পনা করে ফেলুন।

আপনার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হতে কয়েক মাস বাকী’ থাকলেও,

সম্ভব হলে এ রমাদানেই যাকাত আদায় করে দিন। যাকাত অগ্রিম আদায় করা যায়।

 

তাই, করো’না প’রিস্থিতিতে অভুক্ত ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে,

আপনার যাকাতের অর্থ পৌঁছে দিন তাদের হাতে।

কাজক’র্ম সব ব’ন্ধ থাকায়, খাদ্যাভাবে ক’ঠিন সময় পার করছে শ্রমজীবি স্বল্প আয়ের এই মানুষগুলো।

 

এমন সংক’টাপন্ন মূহুর্তে এর চেয়ে ভালো কোন সৎক’র্ম আর হতে পারে না। পাশাপাশি,

বিগত বছরের অ’পরিশোধিত যাকাত থাকলে সেটাও এই রমাদানে আদা’য়ের প’রিকল্পনা করুন।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেন- “এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়,

 

পবিত্র অন্তরে যে যাকাত তোম’রা দিয়ে থাকো, তা বহুগুণে বৃ’দ্ধি পায়”। (আল-রুম: ৩৯)

কুরআনুল কারীম কে’ন্দ্রীক রমাদানে বিশেষ প্ল্যান করুন। খতম উঠানোর জন্য উঠেপড়ে না লে’গে, বিশুদ্ধ তিলাওয়াত নি’শ্চিত করুন

 

এবং তাদাব্বুর তথা বুঝে বুঝে এবং অনুধাবন করে, কুরানিক ম্যাসেজ গুলো

হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা করুন। তাড়াহুড়ো করে অনেকগুলো খতমের

চেয়ে বুঝে পড়া ও তিলাওয়াতের গুণগত মান নি’শ্চিত করা বেশী জরুরী।

 

রমাদান আসার আগেই কুরআনের বিশেষ কিছু অংশ বা কয়েকটি

সুরা মুখস্ত করার প’রিকল্পনা করুন। পরিবারের সবাই মিলে মুখস্তকৃত

অংশগুলো একে অ’পরকে শুনাতে পারেন। কোয়ারেনটাইনকে কুরআন টাইম বানান।

 

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেন- “এরপরও কি ওরা কোরআন নিয়ে

গ’ভীর ধ্যানে নিমগ্ন হয়ে তা অন্তরে ধারণ করবে না?

নাকি ওদের মনের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে?” (মুহাম্মাদ: ২৪)

 

যেহেতু লকডাউন চলছে, সবাইকে বাসায় থাকতে হচ্ছে, হাতে এখন প্রচুর সময়।

সময়গুলো প্রোডাক্টিভ কাজে বিনিয়োগ করুন।

বাসায় ইস’লামি হালাক্বার আয়োজন ক’রতে পারেন,

 

যেখানে পরিবারের সদস্যরা সবাই মিলে কুরআনের সরল বংঙ্গানুবাদ,

ম’র্মা’র্থ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির কিংবা রিয়াদুস সলিহিন এর মত যে কোন

হাদীস গন্থের উপর বিষয় ভিত্তিক সামস্টিক পাঠের ব্যব’স্থা থাকবে।

 

বিভিন্ন ইস’লামিক স্কলারদের লেকচারগুলো ইউটিউব থেকে শুনুন,

তাদের লাইভ প্রো’গ্রামগুলোতে জয়েন করুন এবং এগুলো স্যোশাল

মিডিয়ায় শেয়ার করুন। নলেজ শেয়ারিং অনেক বড় সাদাকাহ।

 

রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন- “আমা’র পক্ষ হতে একটি বাণীও যদি

তোমা’র জা’না থাকে, তবে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দাও”। (বুখারী)

তারাবির সালাতের ক্ষেত্রে, রাকাত বিত’র্ক এড়িয়ে চলুন। ধীরেসু’স্থে,

 

একাগ্রচিত্তে এবং তা’দিলুল আরকান মেনটেইন করে সালাত আদায় করুন।

বিশ রাকাত পড়তে পারাটাই উত্তম। আবার, রাসূল (সা:) এর আট রাকাতের

হাদিসের বর্ননাও স্বত:সিদ্ধ। তাই, কোয়ান্টিটি নিয়ে বিত’র্ক না করে,

 

কোয়ালিটি সালাতের দিকে মনযোগী হোন। ইস’লামি শারি’য়ায় যে

ব্যাপারগুলোতে প্রশস্ততা রয়েছে সেগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।

তাছাড়া, কুরআনে সুন্দর আমলের কথা বলা হয়েছে, বেশী আমলের কথা নয়।

 

তাই, সত:স্ফূর্ত ও প্রানবন্তভাবে রাতের সালাত দুই রাকাত দুই রাকাত করে যত

বেশী আদায় করা যায় ততোই সাওয়াব। নিষ্প্রা’ণ সালাত আল্লাহ তায়ালার কাছে

মূল্যহীন, যদিও তা সংখ্যায় বেশী। রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন- “তোমাদের সাধ্যে

 

যতটুকু কুলায় ততটুকুই ইবাদত কর। আল্লাহর শপথ, নিশ্চই আল্লাহ কখনো

ক্লান্ত হবেন না বরং তোম’রাই ক্লান্ত হয়ে পড়বে”। (মু’সলিম)

সারা বছর হয়তো অনেকেরই তাহাজ্জুদ পড়ার সুযোগ হয়ে উঠেনা।

 

এ মাসে এই বিশেষ সুযোগটি কাজে লা’গানো যেতে পারে। সাহুর খাওয়ার জন্য

তো আমাদেরকে উঠতেই হবে। তাই, প্রতিরাতে সাহুর খাওয়ার আগে অথবা

পরে, দু্ চার রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করার প’রিকল্পনা করুন।

 

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- “আর রাত্রির কিছু অংশ তাহাজ্জুদে

কুরআন পাঠ সহ জাগ্রত থাকুন। এটা আপনার জন্যে অ’তিরি’ক্ত।

অচিরেই আপনার পা’লনক’র্তা আপনাকে এক প্রশংসনীয় মাকামে অধিষ্ঠিত করবেন”। (বনি ইস’রাইল: ৭৯)

 

পরিমিত ইফতার ও সাহুর গ্রহনের প’রিকল্পনা করুন।

মাত্রাতিরিক্ত ইফতার ও সাহুর গ্রহনের ফলে অলসতা তৈরি হবে এবং

সারাদিন কুরআন তিলাওয়াতে ও রাতে কিয়ামুল্লাইলে আপনি মজা পাবেন না।

 

তাই, রমাদানে হেলথি ডায়েট মেনটেইন করার চেষ্টা করুন। এতে আপনার

প্রোডাক্টিভিটি অনেক গুণে বেড়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন- “ পাকস্থলীর এক তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ থাকবে শ্বা’স প্রশ্বা’সের জন্য” (তিরমিযি)

 

ক্বদর বা ভাগ্যরজনী তালা’শের জন্য, রমাদানের শুরু থেকেই

সিরিয়াসলি প’রিকল্পনা নিয়ে রাখু’ন। প্রয়োজনে ক্যালেন্ডারে তারিখগুলো

মা’র্ক করে রাখু’ন যাতে করে, কোন ভাবেই এ রাতের বারাকাহ মিস না হয়ে যায়।

 

রমাদানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর যে কোন একটি রাত হল- সেই

বহু প্রতিক্ষীত ক্বদরের রাত। যে রাতে পবিত্র কুরআনুল কারীম নাযিল হয়েছে,

যে রাত হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যে বরকতময় রাতে আরশের মালিকের

 

রাজকী’য় ব্যব’স্থাপনায় প্রতিটি গু’রুত্ব পূর্ণ বিষয়ে বিজ্ঞোচিত ফায়সালা দেয়া হয়,

আর সে রাতে ফজর উদিত হওয়া অবদি গোটা দুনিয়ায় শান্তির সমীরণ বহে।

সকল ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে, ইবাদতে মশগুল থাকুন এ মহিমান্বিত রজনীতে।

 

রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন- “যে ব্য’ক্তি ক্বদরের রাতের মাহাত্ম অর্জন থেকে

ব’ঞ্চিত হল, সে আ’সলেই দুর্ভাগা”। (নাসাঈ)

Check Also

এবার করোনার মধ্যে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হলেন একই পরিবারের ৩ সদস্য!

ইস’লাম শান্তির ধ’র্ম, আর এ ধ’র্মে রয়েছে মানুষের জন্য কল্যাণকর জীবন ব্যবস্থা। এমন আত্ম-উপলব্ধি থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *