স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দরজা বন্ধ

কয়েকদিন আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন হেফাজতের কয়েকজন নেতা। রাতের বেলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাসভবনে গিয়ে তারা সাক্ষাৎ করেন, এটিই শেষ। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানারকম মিশ্র প্রতিক্রিয়ার পর

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে হেফাজতের জন্য। সাম্প্রতিক সময় হেফাজতের কোনো নেতাই আর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেখা পাচ্ছেন না, কথাও বলতে পারছেন না। গত পরশু হেফাজতের বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন

 

করেছিলেন জাতীয় পার্টির এমপি এবং সাবেক মন্ত্রী ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম

মাহমুদ হেফাজতের কমিটি বিলোপসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথাগুলো শুনেছেন কিন্তু

 

কোনো মন্তব্য করেন নাই। ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নিজেই বলেছেন যে মনে হলো তিনি শুধু শুনছেন

কোনো মন্তব্য করছেন না, দায় দায়িত্ব নিচ্ছেন না। মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দরজা এখন বন্ধ হয়ে গেছে হেফাজতের

 

জন্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করছেন যে হেফজাতের নেতাদের বিরুদ্ধে যেহেতু

আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। কাজেই এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আলাপ-

 

আলোচনা বা সমঝোতার কোনো জায়গা নেই। সম্ভবত এ কারণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন হেফাজতের সঙ্গে কথা বলছেন

না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হচ্ছে, হেফাজতের ইস্যুটাকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছে না বরং এটিকে আইন

 

শৃঙ্খলা ইস্যু হিসেবে দেখছে। এদিকে হেফাজতের যাদেরকেই গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে হেফাজতের নেতা

হিসেবে গ্রেফতার করা হয়নি গ্রেফতার করা হয়েছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কারণে। আর এ

 

কারণেই অভিযুক্তদের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো কথা বলছেন না। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছেন যে,

প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তা হলো আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটা নিশ্চই পেয়েছেন। আর এর পর থেকে তিনি হেফাজতকে নিয়ে কথা বলছেন না। কিছুদিন

 

আগেই হেফাজতের নেতারা কথায় কথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যেতেন এবং বৈঠক করতেন। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

ইস্যুতেও তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

 

সঙ্গে বৈঠত করেছেন হেফাজত নেতারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবসময় আলাপ আলোচনার দরজা খোলা রাখেন এবং এ

ধরনের উদ্যোগুলো যেকোনো সংকটের সামাধান করার ব্যাপারে ভূমিকা রাখে। আর এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুনাম

রয়েছে। কিন্তু হেফাজত গত ২৬ ও ২৭ মার্চ যেটা করেছে তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই চ্যালেঞ্জ করা নয়

 

বরং দেশের অস্তিত্ব ও সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আমাদের রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করা।

এর পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। মাঝখানে যেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সেটি কোনো আনুষ্ঠানিক

বৈঠক ছিলো না বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্রগুলো বলছে, সরকার এখন হেফাজতের মামলাগুলোকে আইনি

 

প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাবে এবং এই মামলাগুলোর ব্যাপারে যেন কোনো পক্ষ থেকেই কোনা রকম হস্তক্ষেপ না হয় সেটা

নিশ্চিত করবে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এখন হেফাজতের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবেন না। তবে হেফাজতের

সঙ্গে সরকারের সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এই মূহুর্তে খুব একটা হালে পানি

পাবেন বলে মনে হয় না।

 

 

Check Also

বিয়ের অনুষ্ঠানে স্টেজেই বরের ইমামতিতে নামাজ, ছবি ভাইরাল

ইসলামে, বিবাহ হল বিবাহযোগ্য দুইজন নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রনয়নের বৈধ আইনি চুক্তি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *