১৩ বছরে ৮ বিয়ে করে এখন সংসার করছে স্কুল শিক্ষিকার সঙ্গে

ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আবু সায়েম। বয়স হবে ৩০-৩২ বছর। নারীসঙ্গ তার খুবই প্রিয়। যে

কারণে আইন-আদালত ও সামাজিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি একের পর এক বিয়ে করেই চলছেন।

 

তিনি এ পর্যন্ত আটটি বিয়ে করেছেন। সায়েমের প্রথম স্ত্রী দুই সন্তানের জননী শাহানাজ পারভীন সাংবাদিকদের

কাছে এসব তথ্য দিয়েছেন।সায়েমের ৮ বিয়ের বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সায়েমের প্রথম স্ত্রী

 

ভুক্তভোগী শাহানাজ পারভীন স্বামীর এসব বেআইনি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিচার চেয়ে লালমনিরহাট জেলা জজ

কোর্টে গত ৩ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা দায়ের করেছেন। সায়েম লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা

 

ইউনিয়নের নবীনগর এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে। পেশায় ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। তবে তিনি

নিজেকে একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। পোশাক-পরিচ্ছেদে সায়েম নিজের শা’রীরিক

 

সৌন্দর্যকে হা’তিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে না’রীদের আকৃষ্ট করেন বলে এলাকার অনেকে জানিয়েছেন।মা’মলার

বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালে সায়েমের সাথে শাহানাজ পারভীনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয়

 

যৌ’তুকের বাহানা। স্বামীর নি’র্যাতনের মধ্যেই দুই সন্তানের জননী হন প্রথম স্ত্রী শাহানাজ।গরীব বাবার মেয়ে স্ত্রী

শাহানাজ পারভীনকে ঘায়েল করার অন্যতম উপায় হিসেবে যৌতুককেই বেছে নেন সায়েম। তাই কারণে-অকারণে

 

যৌ’তুকের প্রসঙ্গ তুলে প্রথমত মা’রধর, তারপর বিয়ে করার ভ’য় দেখান। এরপর ধীরে ধীরে নানা অ’নৈতিক

কর্মকাণ্ডে জাড়ান।প্রথম স্ত্রীর সম্মতি না নিয়েই সায়েম চুয়াডাংগার এক মেয়েকে বিয়ের স্ত্রী পরিচয়ে বাড়িতে

 

তোলেন। জানা গেছে, ওই নারী চুয়াডাংগার দবির উদ্দিনের মেয়ে লিপি বেগম। শাহানাজ পারভীন তখন উপায় না

পেয়ে সবকিছু মেনে নিয়ে সতীন লিপির সংসার করেন। প্রথম স্ত্রীর ভাষ্যমতে, দ্বিতীয় স্ত্রীকেও সায়েম নি’র্যাতন

 

করতে শুরু করেন। নি’র্যাতনের মাত্রা এত বেশি বেড়ে যায় যে, বিয়ের ২ বছরের মাথায় দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামীকে ছেড়ে

পালিয়ে বাঁচেন। এরপর সায়েম লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধায় তৃতীয় বিয়েটি করেন। জানা গেছে, সায়েমের

 

তৃতীয় স্ত্রী হাতীবান্ধার সিংগিমারী এলাকার মিয়াজানের মেয়ে কেয়া মনি। পরে শ্বশুর ৭০ হাজার টাকায় রফাদফা

করে কেয়া মনিকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সায়েম এরপর চতুর্থ বিয়ের জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন। এই অস্থিরতার

মধ্যে সায়েমের নজর পড়ে পাটগ্রাম উপজেলার বাউরায় প্রতিষ্ঠিত কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষিকা সাজেদা আক্তার

 

কবিতার উপর। শুরু হয় প্রেমের অভিনয়। এক পর্যায়ে গরীব ঘরের মেয়ে কবিতাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে ভেগে নিয়ে

যান সায়েম। বর্তমানে সায়েম কবিতাকে নিয়েই আছেন বলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন। এরপর সায়েম কুড়িগ্রামে গিয়ে

 

বিয়ে করেন। পরে কুড়িগ্রাম থেকে ওই মেয়ের বাবা সায়েমের প্রথম স্ত্রীর কাছে এসে সবকিছু জেনেশুনে ফিরে গিয়ে

মেয়েকে ছাড়িয়ে নেন।সায়েমের এসব কর্মকাণ্ডের খোঁজ নিতে তার এলাকায় গেলে বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল।

এলাকার অনেকেই তার উপরে ক্ষুব্ধ।নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এলাকার কয়েকেজন জানিয়েছে, সায়েম

 

নারীলোভী, ঠক ও প্রতারক প্রকৃতির লোক। সে অনেক না’রীর সম্মান নষ্ট করেছে, অনেকের সাথে প্রতারণা

করেছে। অনেকের কাছে বিভিন্নভাবে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। এখন সে কবিতা নামের একজন শিক্ষিকাকে

নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এলাকার লোকজনও বিচার চায় সায়েমের। সায়েমের প্রথম স্ত্রী শাহানাজ জানিয়েছেন,

 

সায়েম আমাকে ও দুই সন্তানকে রেখে এখন কবিতা নামের এক শিক্ষিকাকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি

সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। সায়েমকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। শেষে উপায় না পেয়ে

আদালতে মামলা দায়ের করেছি।সায়েমের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে অনেকেটা ধৃষ্টতার সাথে সায়েম বলেন,

 

তাহলে আপনারা এখন কী করতে চান? আপনাদের কী করার আছে? আ’দালতে মা’মলা করেছে, বিষয়টি আ’দালত

দেখবে।সায়েম বলেন, তার স্ত্রী মা’মলা করেছেন সেটা আইন আ’দালতের বিষয়। এ নিয়ে সাংবাদিকদের নিউজ

করার কী আছে? তবে একাধিক বিয়ের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেননি। এ বিষয়ে বাউড়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের

 

ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন জানালেন, শুনেছি সায়েম নামের ওই যুবক সাজেদা বেগম কবিতাকে নিয়ে পালিয়েছে।

আমি সাজেদা বেগমের পরিবারকে আ’ইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এর বেশি কিছু জানি না।

 

 

Check Also

নিঃস্ব হওয়ার পথে ভারত!

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, ভারতে প্রতি সেকেন্ডে চারজন করে নতুন করো’না রোগী শনা’ক্ত হচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *