ঘরে বসেই ক’রোনা চি’কিৎসা নিয়ে বি’শেষজ্ঞ ডাক্তারের কিছু পরামর্শ

ঘরে বসেই ক’রোনা চি’কিৎসা নিয়ে বি’শেষজ্ঞ ডাক্তারের কিছু পরামর্শ

ক’রোনা নিয়ে মানুষ আ’ত্বঙ্কে আছে তাই আ’তঙ্ক না থেকে নিজেই পরিক্ষা করুন।

ঘরে বসেই ক’রোনা রো’গীরা চি’কিৎসা নিতে পারেন, সব রোগীদেরই

হাসপাতালে যেতে হবে না- এমন বক্তব্য বিশেষজ্ঞদের।

 

যারা স্বাভাবিক অবস্থায় তারা চাইলে ঘরেই চি’কিৎসা সেরে ফেলতে পারেন।

সে সব নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর জেনারেল হা’সপা’তালের

করোনা ইউনিটের কনসালট্যান্ট ডা. রাজীব কুমার সাহা।

তিনি বলেন, ‘অনেকের ধারণা করোনা প’জিটিভ হলেই মনে করেন,

তিনি আর বাঁ’চবেন না। আমি প্রথমেই বলতে চাই- ক’রোনা মা’নেই জী’বন’ঘা’তী

কোনো রো’গ নয়। এক্ষেত্রে অধিকাংশ রো’গীর স’ম’স্যা জ’টিল নয়।

 

অন্যসব সাধারণ ঠা’ন্ডা, কাশি, জ্ব’রের মতো তাদেরও বাসায় চি’কিৎসা করা সম্ভব।

অবশ্য এক্ষেত্রে তাদের বাসায় কিছু পরিবর্তন এবং কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

তাহলে ক’রোনার ভ’য়াল থাবা থেকে মু’ক্ত হওয়া অ’সম্ভব কিছু নয়।’

 

পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের রো’গীরও ক’রোনার চি’কিৎসা বাসায় থেকে হচ্ছে।

এটি খুব স্বাভাবিক। বিষয়টিকে ‘হো’ম আ’ইসোলেশন’ পদ্ধতি উল্লেখ করে

ডা. রাজীব কুমার সাহা ক’রোনা প’জেটিভ রো’গীর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পরামর্শ দেন:

১- বাসায় রো’গীর জন্য অবশ্যই আলাদা রুমের ব্যবস্থা করতে হবে।

২- আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে।

৩- রো’গীর জামা-কাপড়, ব্যবহারের জিনিসপত্র সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে।

 

৪- রো’গী পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে চার সপ্তাহ আলাদা থাকবেন।

তবে একই পরিবারের সবাই কো’ভিড-১৯ পজিটিভ হলে তারা একসঙ্গে থাকতে পারবেন।

সেক্ষেত্রে পরিবারের কেউ বাইরে যেতে পারবেন না অথবা বাইরে থেকে কেউ বাসায়

প্রবেশ করতে পারবেন না।

 

৫- বাসায় রোগী এবং অন্যান্য সবার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

৬- হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় অবশ্যই রুমাল ব্যবহার করতে হবে।

৭- রোগীকে বাসায় পর্যাপ্ত পরিমাণে (দিনে দুই থেকে তিন লিটারের মতো) পানি খেতে হবে।

 

৮- গরম পানি দিয়ে দিনে ২-৩ বার গার্গেল করতে হবে। তবে গরম পানি  পানের প্রয়োজন নেই।

৯- সব ধরনের স্বাভাবিক খাবার খাওয়া যাবে। তবে ভিটামিন-সি যুক্ত ফল খেলে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। লেবু, কমলা, মাল্টা বেশি খেতে পারেন।

১০- বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া প্রয়োজন। এতে রোগ

সংক্রমণ আশঙ্কা কমানো সম্ভব।

১১- বাসার মেঝে জীবাণুমুক্ত করতে বারবার অ্যান্টিসেপ্টিক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

 

করোনায় আক্রান্ত রোগী কী ধরনের ওষুধ গ্রহণ করবেন।

এ প্রসঙ্গে ডা. রাজীব কুমার সাহা বলেন, অবশ্যই চিকিৎসকের

পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। তিনিই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। তবে-

 

১- সাধারণ ভাবে জ্বর, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথার জন্য রোগী তিন

বেলা প্যারাসিটামল খাবেন। জ্বর বেশি হলে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি ব্যবহার করা যাবে।

২- ঠান্ডা, শুকনো কাশির জন্য এন্টি হিস্টামিন যেমন ফেক্সোফেনাডিন,

লরাটিডিন, রুপাটিডিন ইত্যাদি খাওয়া যাবে।

 

৩- বাসায় নেবুলাইজার দিয়ে গ্যাস দেওয়া যাবে না।

৪- অন্যান্য কিছু ওষুধ প্রয়োজন অনুযায়ী খেতে পারবেন। যেমন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ।

৫- ডায়াবেটিস, উচ্চ র’ক্ত’চাপের ওষুধ আগে থেকে যারা খাচ্ছেন তারা সেগুলো চালিয়ে যাবেন।

মনে রাখতে হবে, রোগী মানসিক ভাবে সুস্থ থাকলে শরীরের রোগ

প্রতিরোধ ক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকবে এবং তিনি দ্রুত সেরে উঠবেন।

তাছাড়া যেকোনো জটিলতা দেখা দিলে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে

 

যাওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। কী কারণে হাসপাতালে যেতে হতে পারে

এ প্রসঙ্গে ডা. রাজীব কুমার সাহা বলেন, যাদের বাসায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

অর্থাৎ আলাদা কক্ষ নেই, দেখাশোনা করার লোক নেই বা পরিবারে সদস্য সংখ্যা অনেক। এছাড়া-

 

১- রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট থাকে। ২- রোগীর যদি কাশি বা জ্বর অনেক বেড়ে যায়।

৩- রোগী যদি অতিরিক্ত দুর্বল অথবা অজ্ঞান হয়ে যায়।

৪- যাদের অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, ক্যানসারসহ জটিল রোগ আছে।

 

সবশেষে এই মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন,

এ সময় সব ধরনের গুজব এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচার এড়িয়ে চলতে হবে।

সারাদিন করোনা নিয়ে চিন্তায় পড়ে থাকবেন না। নিজ ধর্ম চর্চার প্রতিও

তিনি এ সময় মনোযোগী হতে বলেছেন। তবে অবশ্যই তা সম্মিলীত ভাবে নয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 NewsTheme
Design BY jobbazarbd.com