ভারতে হিন্দু হয়েও রোজা রাখছেন,বিস্তারিত

ভারতে হিন্দু হয়েও রোজা রাখছেন,বিস্তারিত

রোজা রাখছেন হিন্দু নারী- হিন্দু ব্রাহ্মণ-কন্যা হয়েও রোজা পালন করে

চলেছেন এক মহিলা। সকল ধর্মের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বৃদ্ধির

লক্ষ্যে মুসলিম পবিত্র রমজান মাসে উপবাস পালন করছেন জানিয়ে

 

ইতিহাসের স্নাতক ৫২ বছর বয়সী জয়শ্রী শুক্লা বলেছেন, ‘প্রেম, শান্তি

এবং ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি করার জন্য এটিই তার উপায়। তিনি আনাদুল

এজেন্সিকে বলেছেন,পর্যবেক্ষক ও ফটোগ্রাফার হিসাবে ভারতের

 

বৃহত্তম মসজিদগুলোতে একাধিকবার আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।

আমি মসজিদে মুসলমানদের সাথে মিশে গিয়েছিলাম।

তাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আমাকে মোহিত করে।

 

আমি মুসলিম সংস্কৃতির প্রেমে পড়ে যাই। শুক্লা বলেন, ‘মসজিদে

কেউ কখনো আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি আমি কোন ধর্মের অন্তর্ভুক্ত।

সন্ধ্যায় ইফতারের সময় লোকেরা আমাকে বাড়ি থেকে আনা খাবার সরবরাহ করত।

 

তাদের এসব সংস্কৃতি আমাকে ছুঁয়েছে। আমি সেখানে সংখ্যালঘু ছিলাম,

তবুও তারা আমার সাথে এত শ্রদ্ধা ও ভালবাসার আচরণ করেছে।’

২০১৯ সাল থেকে রোজা রাখছেন বলেও জানিয়েছেন শুক্লা।

 

২০১২ সালের ভারতীয় সাধারণ নির্বাচনের বিজেপি জয়লাভের

পরে তিনি ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং মেরুকরণের কারণে একটা

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন শুক্লা।

বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা জরুরি ছিল।

পরিবারের চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি রোজা পালন করছেন।

তার স্বামী, রাজেশ শ্রীবাস্তব একজন প্লেসমেন্ট অফিসার। গত বেশ কয়েক বছর

ধরে উত্তর প্রদেশে তার পৈতৃক বাড়িতে ইফতার পার্টি করছেন। শুক্লা বলেছিলেন,

‘কেউ আমাকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করেনি, তবে পরিবারের কিছু লোকজন অস্বস্তি

 

বোধ করেন। যদিও আমি নিজের জায়গায় ধর্মভ্রষ্ট বা ধার্মিক কোনটাই নই।

আমি একটি ব্রাহ্মণ পরিবার থেকে এসেছি, সুতরাং অস্বস্তি থাকবে এটাই স্বাভাবিক।’

শুক্লাকে কেউই রোজা রাখতে বা মুসলিম সংস্কৃতিতে আগ্রহী হওয়ার জন্য প্রভাবিত করেনি।

 

এই বছর করোনা ভাইরাস লকডাউনের কারণে শুক্লা তার মুসলিম ড্রাইভারের সাথে

রোজা করছেন এবং পুরো মাস রোজা রাখবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি মনে করেন এটি,

সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতু নির্মাণে এবং অন্য সংস্কৃতিকে আরও ভালভাবে বুঝতে সহায়তা করে।

 

সূত্র- আনাদুল এজেন্সি।

কুষ্টিয়ায় প্রতিদিন শতাধিক মানুষকে রান্না করা খাবার দিচ্ছেন বিথী

খাবার দিচ্ছেন কলেজছাত্রী- কুষ্টিয়া শহরের শতাধিক মানুষের হাতে রান্না করা

খাবার তুলে দিচ্ছেন বিথী আক্তার নামে এক কলেজছাত্রী। করোনা’ভাই’রাসের দুর্যোগ

মোকাবেলায় প্রতিদিনই অসহায়দের সহায়তা করে যাচ্ছেন তিনি। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি

 

মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বিথী আক্তার সেবা শ্রমের ভিত্তিতে

নিজের ছোট ভাইকে সঙ্গে করে নিয়ে কাজটি করে যাচ্ছেন। করোনা’ভাই’রা’সের

কারণে যখন অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন সে সময় নিজের জীবনের

 

মায়া ত্যাগ করে নিজে হাতে অসহায় মানুষের জন্য রান্না করা খাবার তুলে দিচ্ছেন।

কলেজছাত্রী বিথী আক্তারের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কালুয়াতে।

আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করা ওই কলেজছাত্রীর বাবা রুহুল আমিন

 

পেশায় একজন কৃষক। কৃষক কন্যা হয়ে যখন তার নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাড়

করতে প্রাইভেট টিউশনি করতে হয়। তখন সেই মেয়েটি অন্যদের মুখে আহার তুলে

দিতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

কুষ্টিয়া শহরের একটি ছাত্রী নিবাসে থাকেন বিথী। করোনার কারণে দেশে অচলাবস্থা

নেমে আসলে প্রথমে নিজের ছাত্রী নিবাসে খাবার রান্না করে তা গরিব মানুষদের দিতেন।

পরে ওই ছাত্রী নিবাসের সামনে অনাহারী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকলে তিনি নতুন উদ্যোগ নেন।

 

বন্ধুদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে সহযোগিতা চলে আসে বিভিন্ন জায়গা

থেকে। তার পাশে এসে দাড়ান বন্ধু মেহেদী হাসান।

একে একে যোগ হয় ইন্টার্ন করা মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট শাহাবুদ্দিন শামীম, সাকিল

 

ও জুয়েল রানা। এগিয়ে আসেন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক

সিরাজুল ইসলাম খান শিশির। সাংবাদিক প্রীতম মজুমদারও যোগ দেন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে।

বিথীর এই মহতি উদ্যোগের কথা জানতে পেরে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা

 

ইব্রাহিম হোসেনসহ অনেকেই আর্থিক সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেন।

সহযোদ্ধাদের নিয়ে চলছে বিথীর করোনা জয়ের যুদ্ধ। যুদ্ধে শরিক হয়েছে ক্লাস

নাইনে পড়া তার আপন ছোট ভাই সোহরাব।

 

বিথীর বন্ধু মেহেদী হাসান বলেন, বিথীর উদ্যোগে আমরা নিজেদের যুক্ত করে

গরিব অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

বিথী বলেন, আমার সাধ্য অনেক কম। শুরুতে আমি একা স্বল্প কয়েক জনের

 

মধ্যে রান্না করা খাবার তুলে দিতে শুরু করি। জানতে পেরে এখন অনেকেই

আমাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। চাল, ডাল, তেল কিনে দিচ্ছেন।

রোজার প্রথম দিন থেকে আমি এভাবে প্রতিদিন শতাধিক মানুষের হাতে রান্না

 

করা খাবার তুলে দিচ্ছি। শহরের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক তার রান্না ঘর

আমাদের ব্যবহার করতে দিয়েছেন। আর আমরা রান্না করে সরবারাহ করছি।

তিনি জানান, লকডাউনের কারণে গত ৩৭ দিন মানুষের কোনো কাজ নেই।

 

যারা দৈনিক হাজিরায় কাজ করেন তারা না খেয়ে থাকছেন। রোজার মধ্যে

তাদের মাঝে এক বেলা খাবার দিতে পারায় তিনি অনেক খুশি ।
বিথী আরও বলেন, আমি যে ছাত্রী নিবাসে থাকি সেই এলাকায় অনেক মেস রয়েছে।

 

সেখানে যে সব নারী রান্নার কাজ করেন, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার

কারণে তাদের কোনো কাজ নেই। তাদের মুখে খাবার তুলে দিতেই আমরা প্রথমে

এই উদ্যোগ গ্রহণ করি। আস্তে আস্তে সহযোগিতা বাড়ছে, আমরাও চেষ্টা করছি বেশি

মানুষের মধ্যে খাদ্য সরবরাহ করতে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 NewsTheme
Design BY jobbazarbd.com