১১ মাসে ব্যাংক থেকে ৬৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার

১১ মাসে ব্যাংক থেকে ৬৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যাংক থেকে ঋ’ণ নেয়ার পরিমাণ

বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম এগারো মাসে (জুলাই-১৯ থেকে মে-২০) সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ

নিয়েছে ৬৪ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋ’ণের

 

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বা ১৬ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা বেশি। আর গত

পুরো অর্থবছরের চেয়ে ৩৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের

বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক

 

উৎস থেকে ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা

এবং ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋ’ণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়।

এছাড়াও ২৭ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে এবং অন্যান্য উৎস থেকে আরও ৩ হাজার

 

কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু গত মার্চ মাসে দেশে ক’রো’নাভা’ইরাসের প্রার্দুভাব দেখা

দেওয়া এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কমে যায়। এতে বাজেটের ঘাটতি

মোকাবিলায় সরকার ব্যাং’ক ঋ’ণনি’র্ভর হয়ে পড়ে এবং ব্যাং’ক ঋ’ণ নেওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ঘাটতি বাজেট মোকাবিলায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ৪৭  হাজার

৩৬৪ কোটি টাকা ঋ’ণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও মে পর্যন্ত ব্যাংক থেকে সরকার ঋ’ণ নিয়েছে ৬৪ হাজার

২৯৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত মে মাসে সরকার ব্যাংক থেকে ঋ’ণ নিয়েছে ৬ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা।

 

সূত্র জানায়, গত অর্থবছর শেষে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের ১১ মাস শেষে ৩১ মে পর্যন্ত এই ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।

অর্থাৎ সরকার নিট ঋণ নিয়েছে ৬৪ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।

 

আরও ১৪ হাজার কোটি টাকার বিল ও বন্ডের নিলাম রয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ অর্থবছরে

শেষে সরকারের ব্যাংক ঋ’ণ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে

কখনই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এত বেশি ঋণ নেয়নি সরকার।

 

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, যতদিন রাজস্ব

আদায়ে গতি না আসবে অথবা বড় অঙ্কের বিদেশি ঋণ সহায়তা না পাওয়া যাবে, ততদিন ব্যাংক

থেকে সরকারকে ঋণ নিয়েই যেতে হবে। সব মিলিয়ে সামনে খুবই ক’ঠিন সময় আসছে।

 

এখন অর্থ’নীতিকে পু’নরুদ্ধার করতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কিন্তু ব্যাংকের সব টাকা যদি সরকার

নিয়ে নেয়, তা হলে বেসরকারি খা’ত ঋণ পাবে কোথা থেকে?’ আমাদের এখন জোর দিতে হবে

বিদেশি ঋণ সহায়তার দিকে।

উল্লেখ্য, ক’রো’নার আ’ঘা’তের পর থেকে সরকারের ব্যাংক ঋ’ণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লে

 

বেসরকারি খাতের ঋণ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধির রে’কর্ড পরিমাণ নিম্ন

অবস্থায় নেমে এসেছে। গত মার্চে বেসরকারি খাতে ঋ’ণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তার আগে

ফেব্রুয়ারিতে বাড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ হারে। এভাবে প্রতিমাসেই কমছে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ।

সুত্রঃ সময় কন্ঠস্বর

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 NewsTheme
Design BY jobbazarbd.com