বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মিথ্যাচার,বিপদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মিথ্যাচার,বিপদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন

নিজের বি’তর্কি’ত কথাবার্তার কারণে বারবার সমা’লোচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

কিন্তু এবার তিনি যা করলেন, তা রীতিমতো ক্ষমার অযো’গ্য। খোদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর

রহমানকে নিয়ে মি’থ্যা’চার করলেন তিনি। সেটাও আবার ভারতীয় একটি পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে।

 

গত ৩১ মে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য উইক’ পত্রিকায়। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর শেষের

দিকের প্রশ্ন ছিল, শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আপনার কাজের অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল?

এর উত্তরে রীতিমতো মিথ্যার ফুলঝুড়ি সাজিয়ে বসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘১৯৭০ সালে

 

একটি গোল টেবিল সম্মেলনে অংশ নিতে তার (বঙ্গবন্ধু) সাথে আমি পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়েছিলাম।

ওই সম্মেলনের পরপরই তিনি গ্রে’প্তার হন। আমি তার রোজকার কাগজপত্র দেখে দিতাম। আর

স্বাধীনতার পর আমি একজন সিনিয়র আমলা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তার সঙ্গে কাজ করেছি।

 

তাকে আমি দেখেছি, তিনি সবসময়ই কাজের ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন।’ আপাতদৃষ্টিতে

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাগুলো যেকোনো মানুষের খুব ভালো লাগতে পারে।

কিন্তু আমরা যদি একটু অতীতে ফিরে যাই তাহলে দেখব যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই উত্তরের প্রায়

 

প্রতিটি লাইনই মি’থ্যায় ভরপুর। ১৯৬০ এর দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

সে সময় তিনি আইয়ুব খান সমর্থিত জাতীয় ছাত্র ফেডারেশনের (এনএসএফ) এসএম হল শাখার

প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার মতো একজন বিরো’ধী পক্ষের ছোটখাট ছাত্রনেতাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর

 

পশ্চিম পাকিস্তানে গোল টেবিল সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কোনো কারণই নেই। রাজনৈতিক

সঙ্ক’ট নিরসনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান উচ্চ পর্যায়ের ওই সম্মেলনটি ডেকেছিলেন।

দুই পক্ষের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ বা

 

আওয়ামী লীগের কর্মীদের রেখে এনএসএফ সদস্য এ কে আব্দুল মোমেনকে ভ্রমণসঙ্গী করবেন

সেটা কোনোভাবেই বি’শ্বাসযোগ্য নয়। এ কে আব্দুল মোমেন যে মিথ্যাচার করেছেন তার আরেকটি

প্রমাণ হলো, তিনি বলেছেন ১৯৭০ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর ভ্রমণসঙ্গী হিসেবে ওই সম্মেলনে যোগ দিতে

 

গিয়েছিলেন। অথচ ১৯৭০ সালে আদৌ ওই সম্মেলনটি হয়নি। সম্মেলনটি হয়েছিল ১৯৬৮ সালে।

এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ওই সম্মেলনের পরই বঙ্গবন্ধুকে গ্রে’প্তার করা হয়েছিল।

অথচ ওই সম্মেলনের পর বঙ্গবন্ধু গ্রে’প্তার হননি। বরং ওই সফরের কয়েক বছর পর বঙ্গবন্ধু

 

তার জীবনে শেষ বারের মতো গ্রে’প্তার হয়েছিলেন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিদিনকার পেপারওয়ার্ক তিনি দেখভাল করতেন। অথচ তখন

ড. কামাল হোসেন এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বঙ্গবন্ধুর সহযোগী ছিলেন। তাদের মতো

 

অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে মাস্টার্সের ছাত্র একে আব্দুল মোমেন বঙ্গবন্ধুর পেপারওয়ার্ক দেখভাল করবেন

এটা কি কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য কোনো কথা? মন্ত্রী মহাশয় তার উত্তরের শেষে যে কথাটি বলেছেন তা হলো,

‘স্বাধীনতার পর আমি একজন সিনিয়র আমলা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তার (বঙ্গবন্ধু) সঙ্গে কাজ করেছি।

 

তাকে আমি দেখেছি, তিনি সবসময়ই কাজের ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন।

’ জাতির পিতা কাজের ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন, এটা নিয়ে কোনো স’ন্দেহ নেই।

কিন্তু স্বাধীনতার পর একে আব্দুল মোমেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র আমলা হিসেবে জাতির

 

পিতার সঙ্গে কাজ করেছেন, এটা ভিত্তিহীন অস’ত্য কথা ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ আব্দুল

মোমেন একটি মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন সত্য, তবে সেটা সিনিয়র আমলা হিসেবে নয়। বরং

একজন জুনিয়র কর্মী তিনি কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৩ সাল থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি মন্ত্রী দেওয়ান

ফরিদ গাজীর পার্সোনাল সেক্রেটারি ছিলেন।

 

একটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করাটাকে কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ

করা বলা যায় না। একটি বিদেশী পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এত এত অসত্য এবং ভিত্তিহীন

কথা বলা শুধুমাত্র একে আব্দুল মোমেনের জন্যই নয়, বরং পুরো দেশের জন্যই লজ্জার।

 

কারণ তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একজন মন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিদেশে

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিও বটে। এরকম একটি পদে থেকে এত অসত্য কথা বলে

পুরো জাতিকে ল’জ্জায় ফেলার কারণটা কী, সেই উত্তর মাননীয় মন্ত্রী দেবেন কি?সুত্রঃবাংলা ইনসাইডার

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 NewsTheme
Design BY jobbazarbd.com