ভা’রতকে ‘বড় বেইজ্জতি’র হুঁশিয়ারি চীনের

ভা’রতকে ‘বড় বেইজ্জতি’র হুঁশিয়ারি চীনের

লাদাখে সংঘাতের পর এবার ভা’রতকে ‘বড় বেইজ্জতি’র হুঁশিয়ারি দিল চীনের সংবাদমাধ্যম। সীমান্তে

প্রয়োজন হলে অ’স্ত্র ব্যবহারে ভা’রতীয় সে’নাদের অনুমতি দেয়ার পর চীনের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস

এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। গত ১৫ জুন লাদাখে ভা’রতীয় সে’নাদের সঙ্গে সং’ঘর্ষ বাধে চীনের সে’নাদের।

 

সেখানে ২৩ ভা’রতীয় সে’না নি’হত হয়। তবে ভা’রতও দাবি করেছে, সং’ঘর্ষে চীনের ৪০ সে’না নি’হত হয়েছে।

এ ঘটনার পর দুই দেশের সে’নাবাহিনীর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। দফায় দফায় বৈঠকেও কোনো সুরাহা

আসেনি। পরে ভা’রতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন। বৈঠক থেকে ভা’রতীয়

 

সে’নাবাহিনীকে অ’স্ত্রের ব্যবহারের স্বাধীনতা দেয়া হয়। এখন থেকে লাদাখে অ’স্ত্রের ব্যবহার প্রয়োজন

হলে পিছপা হবে না ভা’রতীয় সে’নারা। ভা’রতের এই সিদ্ধান্তের পর চীনের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল

টাইম একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভা’রত যদি চীনের সাথে যু’দ্ধ

 

করতে চায় তাহলে ৬২ সালের চেয়েও বড় বেইজ্জতি সইতে হবে। উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে ভা’রত-চীনের

মধ্যে যু’দ্ধ হয় এবং ভা’রত পরাজিত হয়। গ্লোবাল টাইমসের ওই রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ভা’রতীয়

সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে তাদের ভেরিফায়েড পেজে লিখেছে, ‘চীনের

 

এই মন্তব্যে গা জ্বলে যাবে আপনার! যু’দ্ধ করলে ’৬২-র চেয়েও বড় বেইজ্জতি সইতে হবে ভা’রতকে।

সে’নাকে স্বাধীনতা দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা হুঙ্কার চীনের সরকারি সংবাদপত্র গ্লোবাল

টাইমসের।’ এদিকে লাদাখ সীমান্তে ভা’রত-চীন সে’নাদের সং’ঘর্ষে হতাহতের ঘটনায়, বেইজিং-এর

 

বি’রুদ্ধে কলকাতায় বি’ক্ষোভ হয়েছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভা’রতীয় রাজনীতিবিদরাও।

সীমান্তে সং’ঘর্ষে ভা’রতের নি’হত ২৩ জওয়ানের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দুই সে’না সদস্য রয়েছেন।

কলকাতা থেকে প্রায় তিনশ কিলোটিমা’র দূরে বীরভূম জে’লার সাঁইথিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ ওরাং।

 

চলতি মাসে বিয়ের কথা চলছিল এ সে’না সদস্যের। কিন্তু সোমবার লাদাখ সীমান্তে ভা’রত ও চীনা সে’নাদের

র’ক্তক্ষয়ী সং’ঘর্ষে প্রা’ণ হারান ২৫ বছর বয়সী তরুণ সে’না রাজেশ। এদিকে চীন ও ভা’রতের মধ্যে চলমান

সংঘাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে, উভ’য় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান

 

জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানান।

এ ঘটনায় অ্যান্তনিও গুতেরেসের পক্ষে তার মুখপাত্র এরিক কানেকো বলেন, আম’রা ভা’রত ও চীনের মাঝামাঝি

সীমান্ত লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএসি) সং’ঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং

 

উভ’য়পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। তবে এটা ইতিবাচক যে, উভ’য় দেশ উত্তে’জনা

নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে, ১৯৭৫ সালে ভা’রত-চীন সীমান্তে শেষবার কোনও সে’না জওয়ানের

মৃ’ত্যু হয়েছিল। এরপর থেকে ওয়েস্টার্ন সেক্টরে লাদাখে বা ইস্টার্ন সেক্টরে অরুণাচলে দুই দেশের বাহিনীর

 

মধ্যে হাতাহাতি-মা’রামা’রি কম হয়নি। কিন্তু এ ধরনের প্রা’ণঘাতী মা’রামা’রি কখনও হয়নি।

তবে এই সংঘাতে কোনও পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। লোহার রড, লা’ঠি, পাথর নিয়ে হা’মলা

করেছে চীনা সে’না। তারপরই প্রত্যাঘাত করেছে ভা’রতীয় সে’নারা। ভা’রত ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক

 

উত্তে’জনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটি বেশ কিছুদিন ধরে সীমান্তে ভা’রী অ’স্ত্র মজুত করেছে। পূর্ব লাদাখের

সীমান্ত অঞ্চলে ধীরে ধীরে এসব অ’স্ত্র নিয়েছে দুই দেশ। ভা’রী অ’স্ত্রের মধ্যে কামান এবং যু’দ্ধের গাড়িও

রয়েছে। ভা’রতীয় সে’নাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে,

 

উভ’য়পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ বিরাজ করায় এসব অ’স্ত্রের মজুত করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে ভা’রতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, চীন সে’নাবাহিনী সীমান্তের যে এলাকায় রয়েছে

সেখান থেকে ভা’রতের অংশে ঢুকতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা লাগবে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের

 

বিভিন্ন জায়গায় ভা’রতের সঙ্গে সং’ঘর্ষেও জড়াচ্ছে চীনা বাহিনী। ভা’রতীয় সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়,

চীনের সে’নাবাহিনী লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছের ঘাঁটিগু’লিতে নানান যু’দ্ধের গাড়ি ও ভা’রী

যু’দ্ধের সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। বিষয়টি জানতে পেরে ভা’রতও আর্টিলারের মতো অ’স্ত্র ওই এলাকায় পাঠিয়েছে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 NewsTheme
Design BY jobbazarbd.com