ট্রাম-মোদি-শি সমীকরণ, যুদ্ধ অনিবার্য!

ট্রাম-মোদি-শি সমীকরণ, যুদ্ধ অনিবার্য!

চীন-ভারত যুদ্ধ কি বেধে যেতে পারে? সাধারণ তবে শিক্ষিত মানুষ যারা এতদিন দূর থেকে দেখে একটু

মজা পাচ্ছিল তারা এখন যুদ্ধের টেনশনটা দীর্ঘ হচ্ছে দেখে এবার নিজের জন্য একটু উদ্বিগ্ন হয়ে যাচ্ছে যে,

নিজের জন্য আমল করার মতো এখানে কোনো লুকিয়ে থাকা হু’মকি বা বিপদ হঠাৎ হাজির হতে পারে কি না!

 

তা নিয়ে ভাবছে। গত ১৫ জুন চীনা হা’ম’লায় কমপক্ষে ২০ জন ভারতীয় মা’রা যাওয়ার পর থেকে এই

টেনশনটা এভাবে ক্রমেই সত্যি বলে হাজির হয়েছে। পুরা ব্যাপারটা শুধু ভারতীয় সৈন্য মা’রা যাওয়ার মধ্যে

আটকে থাকলে তাও হয়তো চলত। কিন্তু সর্বদলীয় বৈঠকের ব্রিফিংয়ে ভারতের কেউ যা কল্পনাও করেনি তাই ঘটে

 

গেছে। গত ছয় বছরে সবসময় ছত্রিশ ইঞ্চি বুকের ছাতি দেখিয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওই সভায়

বলে বসেন, ‘সীমানা পেরিয়ে কেউ ভারতে ঢোকেনি। ভারতের কোনো সেনা চৌকিও অন্য কারো দখলে নেই।’

এর সোজা মানে দাঁড়ায়, ওই ২০ ভারতীয় সেনা চীনের ভূখণ্ডে গিয়ে মার খেয়ে ম’রেছে। আর সহযোদ্ধা-সৈন্যরা

 

তাদের লাশ বয়ে ভারতে এনেছে, এমন মানে হয়ে গেছে। কিন্তু ব্যাপারটা এতই শকিং আর বেইজ্জতির প্রশ্ন

যে, বিরোধীরা বুঝে যান এ নিয়ে কথা বাড়ালে সারা ভারত আরো অপমানিত হবে।

তাই ভারতের এক সাবেক রাষ্ট্রদূত নিজের কলামে লিখছেন, কোনো বিরোধী নেতা সভার ওই অবস্থায়

 

আর যুদ্ধে যাওয়ার পক্ষে মুখ খোলেনইনি। কিন্তু কিছু ‘সাহসী’ সাংবাদিক বা সাবেক কূটনীতিক যারা

নিজেদের খুবই ‘সাচ্চা ন্যায়পরায়ণ’ মনে করেন তারা তাদের ভারত-নেশন আরো অপমানিত হবে, সে সম্ভাবনার

দিকটা ভুলে বা পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কর্তব্য পালনে খুবই ব্যস্ত।

 

আসলে তারা নেশনের অপমানের দায় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে যে এর দায় মোদির ওপর চাপিয়ে

দিতে সফল হয়েছেন, সুতরাং অন্তত নিজেরা আর অপমানিত বোধ করছেন না। ভারতের সাংবাদিক করণ

থাপার আর সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা রাওয়ের সাক্ষাৎকার দেখে তাই মনে হয়েছে।

 

যেন তারা জানেন না যে, মোদির রাজনীতি উগ্র হিন্দু-জাতিবাদী এবং তার বিজেপি দল মিথ্যা বলতে বলতে

পুরা দেশকেই প্রায়ই অপমান করে ফেলে থাকে। তারা ভারতের মুসলমান নাগরিকদের সীমাহীন নিপীড়ন

নির্যাতন হ’ত্যা করে থাকে। আর এজন্য নিয়মিত দুনিয়ার হিউম্যান রাইটস সংগঠনগুলো এসব কাজ

 

তুলে ধরে মোদি সরকারের নিন্দা করে। তাতেও এরা কেউ বিজেপির মতোই কোনো অপমান বোধ করেন না।

আসলে তারা নেশন-স্টেট বা জাতি এই বোধছাড়া রাজনীতি হতেই পারে না বলে মনে করে নিশ্চিন্তে ডুবে থাকেন।

অথচ এরাই আবার বাস্তবে অন্যের হাতে অপমানিত হলে বা মার খেলে তখন ওই কথিত নিজ জাতি-দেশ থেকে

নিজেকে মুক্ত বলে কল্পনা করতে থাকেন।

 

তিনিও জানেন এতে অপমান বা সমস্যা যাবে না; তবু নিজেকে একটা সান্ত্বনা দিতে তারা এসব হাসির

কাণ্ড করে থাকেন। কিন্তু তবু এরা ‘নেশনের’ রাজনীতিই যে ‘উগ্র জাতিবাদ’ তা বুঝেও এর প্রতি তাদের

ভালোবাসা থেকে একটু হেলবেন না। তাদের বিশ্বাস এমনই শক্ত।

 

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে এই ব্যক্তিরা আরেকটা আশার আলো দেখে ফেলেছিলেন। এরা আলোর

মরীচিকায় বিশ্বাস করেন, ও পেছনে ছুটতে রাজি থাকেন। এরা জানেন এটা মরীচিকা এবং নিছক আলো

নয়, এর পরেও নিজের প্রবল হতাশা ঠেকাতে মনকে বুঝ দেনÑ যদি ওটা সত্যিই আলো হয়েই যায়!

 

এমন ব্যক্তিরা বিশেষ করে মিডিয়াকর্মীরা আশার আলো জাগাতে বলতে শুরু করলেন, আমেরিকা নাকি

ভারতের সমর্থনে সৈন্য সরিয়ে আনছে জার্মানি-ইউরোপ থেকে এশিয়ায়। বাংলাদেশেও আমেরিকান

স্বার্থ দেখা থাকতে চাওয়া মিডিয়ার কেউ কেউ এই খবরটাকে টুইস্ট করেছেন।

 

ঘটনা হলো, যুদ্ধ করে নগদ বা বাকি কোনো রিটার্নই নেই এমন বিপুল বেহুদা সামরিক খরচ করে

ফেলেছে আমেরিকা। কোথায় কবে? আপনারা অনুমান করলেই তা মিলে যাবে। জবাব, ইরাক ও আফগানিস্তানে।

এ কারণে দুর্বল আমেরিকার অর্থনীতি আরো ডুবছেÑ এই অনুমান প্রবল হচ্ছে সেই ২০১০ সাল থেকে।

 

লিয়ন পেনেত্রা, চাক হেগেল বা এশ কার্টার এভাবে পরপর যারা ডিফেন্স সেক্রেটারি ছিলেন তারা সবাই

খরচের সেই ঝাপ্টার বিষয়ে, ন্যাটোর মিটিংয়ে ‘ইউরোপ কোনো খরচ দেয় না’ বলে সরব হয়ে থেকেছেন।

আর প্রকাশ্যে মিডিয়ায় অভিযোগ তুলেছেন এই অনুমানে যে, অপমান করলে বোধহয় ইউরোপ যুদ্ধের

এই ভাটির দিনে এসে কিছু খরচের দায় নেবে।

 

কিন্তু না, প্রশ্নই আসে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকান সেনারা (যখন সেটা আমেরিকার

এম্পায়ার উত্থানের যুগ, ফলে বহু খরচের দায় নিজেই এককভাবে নিয়ে নিয়েছিল) আর কখনো ব্যারাক

গুটিয়ে নিজ দেশে ফেরেনি বরং জার্মানিতে ঘাঁটি গেড়ে থেকে গিয়েছিল।

 

আর ন্যাটো গঠিত হলেও এর ৯৫ শতাংশ পরিচালন খরচের দায়ভার আমেরিকা একা বহন করে গেছে।

যদিও ইরাক ও আফগানিস্তানে আমেরিকা এক ব্যর্থ যুদ্ধে খরচ করে গেছে, তবু মনকে সান্ত্বনা দিতে

ইউরোপে ন্যাটোর খরচ দেয় না বলে ঝাড়ি দিয়ে গেছে সেই থেকে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 NewsTheme
Design BY jobbazarbd.com