কোরিয়ার এক চার্চে ৫ হাজার করোনা রোগী, ধর্মগুরু গ্রে’ফতার

করোনা ভাইরাস ছড়ানোর দায়ে এক ধর্মীয় নেতাকে গ্রে’ফতার করেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। ‍৮৮ বছর

বয়সী লি ম্যান হি শিনচিওঞ্জি চার্চের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান তিনি। ওই চার্চ থেকে দেশজুড়ে করোনা ভাইরাস

ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়। চার্চের ৫ হাজার সদস্য করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হন। যা দেশটিতে

 

মোট আ’ক্রা’ন্তের ৩৬ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, লি তার করোনায় আ’ক্রা’ন্ত

সদস্যদের তথ্য গোপন করেছেন। লুকিয়েছেন তাদের সঙ্গে যাদের সাক্ষাৎ হয়েছে, তাদের খোঁজে বের করতে।

চার্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লি তার সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু কখনোই তিনি

 

তথ্য গোপন করেননি। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩শ’ ৩৬ জন করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে।

মা’রা গেছেন ৩শ’ জন। শনিবার (০১ জুলাই) সকালে লি-কে গ্রে’ফতার করা হয়। এ

কজন বিচারক জানিয়েছেন, অভিযোগ সম্পর্কিত তথ্য ধ্বংসের আলামত পাওয়া গেছে। লি-এর

 

বিরুদ্ধে ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার আ’ত্মসা’তের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনুমতি ছাড়া

ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজন করার। চার্চ জানায়, আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় লি-কে ব্যাপকভাবে

অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি তদন্তে কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি করেননি। আদালত গ্রে’ফতারি

 

পরোয়ানা জারি করেছে তার অর্থ এই নয় যে, তিনি অ’পরা’ধী। আগামী হাজিরায় সত্য উন্মোচনে সম্ভাব্য

সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলেও চার্চের বিবৃতিতে বলা হয়। লি ম্যান-হি বলেছিলেন যে, তিনি হলেন যীশু

খ্রিস্টের দ্বিতীয় আগমনের অবতার। বাইবেলে উল্লিখিত প্রতিশ্রুত যাজক হিসেবও নিজেকে দাবি করেন তিনি।

 

কোরিয়ায় ১৯৮৪ সালে তিনি শিনচিওঞ্জি চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন। শিনচিওঞ্জি অর্থ পৃথিবীতে নতুন স্বর্গ।

শিনচিওঞ্জি চার্চের ২ লাখ ৩০ হাজার সদস্য রয়েছে। অনুসারী রয়েছে অনেক। অনুসারীদের বিশ্বাস লি

১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষকে তার সঙ্গে স্বর্গে নেবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরে চীন, জাপানসহ পূর্ব এশিয়ার

 

কয়েকটি দেশে শিনচিওঞ্জি চার্চের ২০ হজার অনুসারী রয়েছে বলে জানানো হয়। শিনচিওঞ্জি অনুসারীরা

একে অপরকে শক্তভাবে জড়িয়ে ধরে প্রার্থনা করে। এসময় তাদের চশমা, নেকলেস এবং কানের দুল

ব্যবহার করা নিষেধ বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে শিনচিওঞ্জি চার্চের সদস্যরা

 

একে অপরের মাধ্যমে করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়। তারপর তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করেছে এবং

করোনা ছড়িয়েছে। মার্চে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য ক্ষমা চান লি। বলেন, ‘যদিও এটি ইচ্ছাকৃত নয়।

অনেক মানুষ আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু রোধ করতে পারিনি।’

 

 

Check Also

বিশ্বের প’রাশ’ক্তি হতে যাচ্ছে তুরস্ক

  ব্যাপক অনুসন্ধানের পরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান গত শুক্রবার আনন্দের সাথে ঘোষণা করেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *