জাতীয় দলের ফুটবলার এখন সিএনজি চালক

‘ভাই জীবনে কোনোদিন ভাবিনি সিএনজি চালিয়ে জীবন চালাতে হবে। হওয়ার কথা ছিল অনেক

টাকার মালিক। অথচ এখন সংসারের ঘানি টানতে চালাতে হচ্ছে সিএনজি’।

দু:খ ভা’রাক্রান্ত কন্ঠে এক নি:শ্বা’সে কথা গুলো বললেন জি এম মামুন। ২০০৭ সালে

 

বাংলাদেশের ফুটবলে যুগান্তকারী এক ঘটনা ঘটে। একই সময়ে দুই জাতীয় দলকে পাঠানো হয়

বিদেশে। একটি সৈয়দ নইমুদ্দিনের অধীনে ভা’রতের নেহেরু কাপে। অন্যটি হাসানুজ্জামান বাবলুর

কোচিংয়ে খেলতে যায় মালয়েশিয়ার মা’রদেকা কাপে। সেই মা’রদেকা কাপে বাংলাদেশ দলের

 

সদস্য ছিলেন জি এম মামুন। সে বছরই প্রথম পেশাদার লিগে ঢাকা আবাহনীর, মোহামেডান ও

মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে খুলনা আবাহনীর জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধার পাঁচ জনকে

কাটিয়ে গোল করার পরই নইমুদ্দিনের নজরে পড়েন তিনি। এরপর ২০১০ সালে সকার ক্লাব

 

ফেনীর অনুশীলনে হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর আর ফিরতে পারেননি ফুটবলে। সেই প্রচণ্ড ধাক্কার

পরই আজ মামুন সিএনজি ড্রাইভা’র। ভাড়ায় চালানো এই বাহন থেকে দিনে যে ৪/৫ শত টাকা

পান তা দিয়েই স্ত্রী’ আর দুই সন্তান নিয়ে ক’ষ্টে চলছে মামুনের জীবন।

 

‘আগে আমা’র টাকায় সংসার চলতো। তিন ভাইয়ের মধ্যে আমিই ছিলাম পরিবারের সবচেয়ে

বেশী অর্থ উপার্জনকারী। আমা’র টাকায় বাবার নামে জায়গা জমি কেনা হতো। কিন্তু বাবার মৃ’ত্যুর

পর অন্য দুই ভাই আর আমা’র পাশে দাঁড়ায়নি। এক ভাই ডাক্তার। অন্যজন থাকে বিদেশে। তারা

 

সামান্য পরিমাণ টাকাও সাহায্য করে না। এই দু:খের কথা কাকে বলবো।’ বলেন মামুন।

২০০৪ সালে প্রথম বিভাগ ফুটবলে ওয়ারীর হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া এই স্ট্রাইকার বলেন,

ইন’জুরিতে পড়ে খেলা ছাড়ার পর মুদি দোকান দিয়েছিলাম। তাতে তেমন লাভ না হওয়ায় পরে ইজিবাইক

 

কিনে তা চালিয়ে জীবন চলছিল। পরে তা চু’রি হয়ে যাওয়ায় এখন ভাড়ায় সিএনজি (স্থানীয় নাম মহেন্দ্র) চালাই।

ফুলতলা থেকে রুপসা রুটে চলে আমা’র এই বাহন। তথ্য দেন, ২০১১-এর মওসুমের জন্য আমাকে নিতে

চেয়েছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। এই ক্লাবে খেললে আরো এগিয়ে যেতে পারতাম। পাল্টে যেত ফুটবল

 

ক্যারিয়ারই। কিন্তু ইন’জুরি সবই শেষ করে দিয়েছে। দেশে করো’নার শুরুর দিকে লকডাউনের প্রবল প্রভাব

পড়েছিল খুলনার ফুলতলাতেও। সে সময় সিএনজি চালাতেও পারছিলেন না মামুন। ‘প্রচণ্ড অর্থ ক’ষ্টে পড়ি।

তখন খুলনা খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে কিছু চাল ডাল কিনে দেয়া হয় আমাকে।’ জানালেন তিনি।

 

ক’ষ্টের সাথে আরো বলেন, ‘আগে যাদের সাথে বসে আড্ডা দিতাম তারা এখন আমা’র এই জীবন দেখে

মুখ ঘুরিয়ে নেয়। না চেনার ভান করে।’ অবশ্য এই ক’ষ্টের মধ্যেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা সামান্যতমও

কমেনি জি এম মামুনের। ২০১০ সালেই খুলনার ফুলতলাকে চালু করেছেন ফুলতলা ফুটবল অ্যাকাডেমি।

 

সেই অ্যাকাডেমির ফুটবলার আসিফ শেখ খেলেছেন বাসাবো তরুণ সংঘে। চট্টগ্রাম লিগে খেলা

সুজন ডাক পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলের ক্যাম্পে। এখন এক বেলা সিএনিজি চালান।

আর বিকেলে অ্যাকাডেমিতে সময় দেন।

 

 

Check Also

বিশ্বের প’রাশ’ক্তি হতে যাচ্ছে তুরস্ক

  ব্যাপক অনুসন্ধানের পরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান গত শুক্রবার আনন্দের সাথে ঘোষণা করেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *