গণতন্ত্র কি বদলে যাচ্ছে : আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত

গণতন্ত্র কি বদলে যাচ্ছে : আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত

ধরার বুকে প্রতিটি অস্তিত্বের একটি মেয়াদ রয়েছে। প্রতিটি বস্তু ও প্রাণকে আমরা নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে দেখতে

পাই। মানুষের আয়ু সাধারণত ষাট-সত্তর বছর। একজন মানুষ বড়জোর ১০০ বছর বাঁচে। মানুষের সৃষ্ট ধারণা ও

আইডিয়ারও মেয়াদ আছে বলেই

 

 

আমরা দেখতে পাচ্ছি। নিজেদের শাসনের জন্য মানুষ অনেক তন্ত্রের জন্ম দিয়েছে।

এসব ব্যাপারেও মানুষ এখন সিদ্ধান্তমূলক মন্তব্য করার অবস্থানে পৌঁছেছে। কার্ল মার্কস

যেমন মানুষের মধ্যে সমতা অর্জনকে অনিবার্য মনে করেছিলেন। শ্রেণীহীন সমাজ

 

 

নির্মাণের ধারণা নিয়ে বিগত ২০০ বছরে অনেক রক্তক্ষয় হয়েছে। তরুণদের কাছে বিশ শতকে সমাজতন্ত্রকে

অসাধারণ কিছুই মনে হয়েছিল। এই শতাব্দীতে লেনিন, চে গুয়েভারা, ফিদেল কাস্ট্রোর মতো পৃথিবী বদলে

দেয়া বহু নেতৃত্ব দেখা গেছে। তবে মাত্র সাত দশকের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে খান খান

 

 

হয়ে যায়। রাশিয়ানরা সমাজতন্ত্র ত্যাগ করে গণতন্ত্রকে আলিঙ্গন করে। সারা বিশ্বের সমাজতন্ত্রীদের মনে হতাশা

নেমে আসে। এখন সম্ভবত কোনো দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তরুণরা রক্ত দিতে প্রস্তুত নন।

গণতন্ত্র কি তা হলে টেকসই? এই তন্ত্র কি অনাদিকাল শাসন করার জন্য উত্তম ব্যবস্থা হিসেবে বহাল থাকবে?

 

এই প্রশ্নের উত্তর অনেকভাবে আমরা পেয়েছি। নাগরিক সাধারণের ব্যাপারটি বুঝে নেয়ার দরকার রয়েছে।

গণতন্ত্রচর্চাকারী বিশ্বের বৃহৎ দু’টি দেশের অবস্থা আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারি। আমেরিকা ও ভারতে গণতন্ত্র

অনেকটাই রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে।

 

 

হাসপাতালে ভর্তি করে দেশ দু’টির গণতন্ত্রকে ইনটেনসিভ কেয়ারে নেয়ার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তবে হঠাৎ

করে একদিন যেমন রাশিয়া ভোল পাল্টে সমাজতন্ত্রকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, গণতন্ত্র ঠিক এভাবে ছুড়ে ফেলে

দেয়ার সুযোগ সম্ভবত নেই। কারণ রাশিয়ানরা সেটা ছুড়ে ফেলার জন্য প্রস্তুত ছিল গণতন্ত্র।

 

কিন্তু ‘গণতন্ত্রওয়ালা’রা এটি ফেলে দিয়ে আরেকটি তন্ত্র যে গ্রহণ করবেন, সেটি প্রস্তুত নেই। তবে তাদের স্বৈরতন্ত্রের

দিকেই যেতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু স্বৈরতন্ত্রের কথা মুখে নিতে শাসকরা লজ্জা পাচ্ছেন। অন্তত গণতন্ত্রওয়ালারা

প্রকাশ্যে এটি গ্রহণ করতে পারেন না। ঘোষণা কেউ না দিলেও অনেকের যাত্রা ওই দিকেই।

 

গণতন্ত্র চর্চাকারী বিশ্বের বৃহৎ দু’টি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করব আমরা। আমেরিকায় অনুষ্ঠিত

হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

ব্যক্তিগত আচার আচরণ দেশটির প্রকৃত পরিস্থিতি কোথায় নেমেছে তার ধারণা দেবে।

মিথ্যুক ও প্রবঞ্চকরূপে পরিচিত একজন মানুষকে দেশটির জনসাধারণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছে।

 

 

এখনো দেশটির বিপুল জনগোষ্ঠী প্রায় উন্মাদ একজন মানুষকে প্রেসিডেন্ট বানাতে চায়, কেবল বর্ণবাদী স্বার্থ

হাসিলের জন্য। অন্য দিকে বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে কেবল হিন্দুধর্মীয় স্বার্থে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র

পরিচালনার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সংখ্যালঘুরা দেশটিতে ভয়াবহ বঞ্চনার মধ্যে পড়েছেন।

 

বাবরি মসজিদ নিয়ে দেশটির শাসক ও বিচার বিভাগ কী আচরণ করেছে, সেটি লক্ষ করলে দেশটিতে গণতন্ত্রের

স্বাস্থ্য আমরা অনুমান করতে পারব। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ব্যাপারে তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমএস

লিবারহেনের সমন্বয়ে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

 

দীর্ঘ ১৭ বছর তদন্ত শেষে ২০০৯ সালে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে রিপোর্ট পেশ করেন তিনি।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের প্রশাসন ও পুলিশ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় নীরব ছিল। প্রদেশের

মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং উগ্র সংঘ পরিবারের সমর্থনের ওপর নির্ভর করছিলেন।

 

মূলত রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আরএসএস সরকারের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করেছে। অত্যন্ত

পরিকল্পিত উপায়ে তারা বাবরি মসজিদ ধ্বংস প্রক্রিয়াসম্পন্ন করেছিল।

প্রশাসনের নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের আগে নিষ্ক্রিয় করা হয়। তার পর নিরাপত্তা বাহিনীকে

তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজানো হয়, যাতে এই মসজিদ ধ্বংস করতে কোনো বাধা না আসে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 NewsTheme
Design BY jobbazarbd.com