এটিই সেই নিল নদ, যার সঙ্গে মিশে আছে হযরত মুসা (আ.) এর স্মৃ’তি

এটিই সেই নিল নদ, যার সঙ্গে মিশে আছে হযরত মুসা (আ.) এর স্মৃ’তি

নিল নদ। খ্রিস্টের জন্মের ৩১৫০ বছর আগে আফ্রিকা মহাদেশের রহস্যঘেরা এই নদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল

মিসরীয় সভ্যতা। বিশ্বের দীর্ঘতম নদ এটি। পবিত্র হাদিস শরিফে এই নদকে জান্নাতের নদ বলে আখ্যা দেওয়া

 

হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সায়হান, জায়হান, ফুরাত ও নিল—এসব

জান্নাতের নহরগুলোরই অন্তর্ভুক্ত।(মুসলিম, হাদিস : ২৮৩৯)ইমাম নববী বলেন, এই নদ-নদীকে জান্নাতের নহর

বলার উদ্দেশ্য হলো, এর তীরবর্তী শহরগুলোতে ইসলাম ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে। (শরহুন নববী আলা মুসলিম :

 

১৭/১৭৭)গ্রিক কবি হোমা’র তাঁর লেখা মহাকাব্য ‘ওডিসি’তে নিল নদকে ইজিপ্টাস নামে অভিহিত করেছেন।

মিসর ও সুদানের নাইল এখন আন-নিল, আল-বাহর ও বাহর আন-নিল বা নাহার আন-নিল নামে পরিচিত। নিলের

উত্তরাংশ সুদানে শুরু হয়ে মিসরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত, প্রায় পুরোটাই মরুভূমির মধ্য দিয়ে। মিসরের সভ্যতা

 

প্রাচীনকাল থেকেই নিলের ওপর নির্ভরশীল। কঙ্গো, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, ইথিওপিয়া, মিসরজুড়ে বিস্তৃত

নিল নদ ভূমধ্যসাগরে গিয়েমিশেছে।এটিই সেই নদ, যার সঙ্গে মিশে আছে মুসা (আ.)-এর স্মৃ’তি। যেখানে তৎকালীন

জালিম বাদশাহ ফেরাউনের হ’ত্যা থেকে র’ক্ষা করতে মহান আল্লাহর নির্দেশে মুসা (আ.)-এর মা (ইউখাবিজ বিনতু

 

 

লাভি ইবনে ইয়াকুব) তাঁকে একটি ঝুড়িতে করে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন।পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,

‘আর মুসা-জননীর প্রতি আমি নির্দেশ দিলাম, তাকে দুধ পান করাও। যখন তুমি তার

সম্পর্কে কোনো আশঙ্কা করবে, তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ কোরো এবং ভয় কোরো না, চিন্তিতও হয়ো না।

 

আমি অবশ্যই তাকে তোমা’র কাছে ফিরিয়ে দেব এবং একজন রাসুল বানাব।’ (সুরা কাসাস, আয়াত : ৭)ঝুড়িটি

ভাসতে ভাসতে ফেরাউনের প্রাসাদসংলগ্ন বাগানে থেমে যায়। ফেরাউনের লোকজন সেটি উ’ঠিয়ে নেয় এবং

পরবর্তী সময়ে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়ার কাছে নিয়ে এলে শিশু মুসা (আ.)-এর সৌন্দর্য দেখে তাঁর কোমল অন্তর

 

মাতৃস্নেহে বিগলিত হয়ে যায়। অবশেষে চিরশত্রু ফেরাউনের ঘরেই তিনি পরম যত্নে লালিত-পালিত হন।

জাহেলি যুগে এই নদকে ঘিরে নানা কুসংস্কারের প্রচলন ছিল। মিসরীয়রা বিশ্বাস করত, দেবতা ‘হ্যাপি’কে খুশি করা

গেলেই নিল নদে পানির প্লাবন আসবে। নতুন ফসল জন্মাবে। তাই তারা দেবতা ‘হ্যাপি’র পূজা করত। শুধু তা-ই নয়,

 

বছরের নির্দিষ্ট একটি সময় নিল নদের পানি শুকিয়ে যেত। তারা বিশ্বাস করত, একটি সুন্দরী কুমা’রী যুবতীকে বলি

দিলেই নিল নদ পানিতে ভরে যাবে। তাই প্রতিবছরই তারা একটি সুন্দরী কুমা’রী যুবতীকে নিল নদে বলি দিত।

মুসলিমদের মিসর বিজয়ের পর সেখানকার গভর্নর আমর ইবনুল আস কুসংস্কারটি চিরতরে ব’ন্ধ করে দেওয়ার

 

সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঘোষণা দেন, যুবতী বলির মাধ্যমে আর কোনো দিন নিল নদের প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে না।

তার এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে অনেকেই মিসর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি তৎকালীন খলিফা ওমর (রা.)-কে

অবহিত করা হলে তিনি নিল নদের উদ্দেশে একটি চিঠি লেখেন। তাতে লেখা ছিল, ‘এই পত্র আল্লাহর বান্দা

 

আমিরুল মুমিনিন ওমর (রা.)-এর পক্ষ থেকে মিসরে প্রবাহিত নিল নদের প্রতি। হামদ ও সালাতের পর, হে নিল

নদ! তুমি যদি নিজ ক্ষমতায় প্রবাহিত হয়ে থাকো, তবে তোমা’র আবার প্রবাহিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

আর যদি তোমাকে আল্লাহ তাআলা প্রবাহিত করে থাকেন, তবে আমি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর দরবারে

 

দোয়া করি, তিনি যেন তোমাকে আবার আগের মতো প্রবাহিত করে দেন।’মিসরের গভর্নর হজরত আমর ইবনুল

আস (রা.)-এর কাছে এই চিঠি পৌঁছার পর নিল নদের গতি রোধ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগের রাতেই আমর

 

ইবনুল আস (রা.) আমিরুল মুমিনিনের দেওয়া এই চিঠি নিল নদে ফেলে দিলেন। পরদিন ভোরবেলা সবাই দেখলেন,

এক রাতেই আল্লাহর হুকুমে ১৬ হাত উঁচু হয়ে নিল নদ পানিতে ভরপুর হয়ে আছে। আজও প্রবহমান সেই নিল নদ!

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 NewsTheme
Design BY jobbazarbd.com