সৈয়দ ইবরাহিম কার লোক

সৈয়দ ইবরাহিম কে নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হচ্ছে । তিনি সরকারের পক্ষে কাজ করছেন না বিরো’ধী দলের পক্ষে কাজ করছেন এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে ‌। গতকাল মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ ইবরাহিম

 

আওয়ামী লীগের কয়েকজন গু’রুত্ব পূর্ণ নেতার স’ঙ্গে বৈঠক ক’রেছেন । এটি ছিল গো’পন বৈঠক । একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই বৈঠক । বৈঠকটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে আখ্যায়িত ক’রেছেন সৈয়দ ইবরাহিম। তিনি বলেছেন যে, হ’ঠাৎ করেই নেতাদের সাথে দেখা হয়ে গেল। কিন্তু চারজন নেতার সাথে একসাথে

 

কিভাবে একসাথে দেখা হয়ে গেলো সেটা একটা বড় প্রশ্ন বটে। সৈয়দ ইবরাহিম গত কিছুদিন ধ’রেই রাজনৈতিক অ’ঙ্গনে বেশ সক্রিয় । বিশেষ করে কূটনৈতিক মহলের স’ঙ্গে নিয়মিত বৈঠক, সুশীলসমাজ, অবসরপ্রাপ্ত সে’না ক’র্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ক’র্মকর্তাদের স’ঙ্গে বৈঠক করে তিনি আলোচিত ।

 

এই সমস্ত বৈঠকে তিনি সরকারবিরো’ধী বৃহত্তর মোর্চা গড়ে তোলার কথা বলে আ’সছেন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেও বিভিন্ন মহলকে বলেছেন। কিন্তু বিএনপি`র পক্ষ থেকে সব সময় সন্দে’হ করা হয়েছিল যে, সৈয়দ ইবরাহিমের আ’সলে মতলব কি? বিশেষ করে সৈয়দ ইব্রাহিমের ওয়ান-ইলেভেনে ভূমিকা নিয়ে বিএনপি এর

 

মধ্যে অনেক প্রশ্ন রয়েছে । ওই সময় তিনি বিএনপি`র ভাঙ্গন এবং তৎকালীন মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম সমর্থক হিসেবে বিএনপি রোষানলে পরেছিলেন । আর এখন তিনি যখন বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলছেন সেই বৃহত্তর ঐক্য কার স্বার্থে এটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

কিছুদিন আগে আওয়ামীলীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, একটি শ’ক্তিশালী বিরো’ধী দল দরকার। তাহলে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কোনও শ’ক্তিশালী বিরো’ধী দল গঠন প্রক্রিয়ায় সৈয়দ ইবরাহিম জড়িত কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে । বাংলাদেশের রাজনৈতিক অ’ঙ্গনে আওয়ামী লীগ

 

বুঝতে পেরেছে যে, একটি ভালো বিরো’ধী দল থাকা দরকার। যে বিরো’ধী দলটির মু’ক্তিযু’দ্ধের চেতনায় বিশ্বা’স করবে এবং স্বাধীনতাবিরো’ধী অপশ’ক্তির সাথে সমঝোতা করবে। আর এ বিরো’ধী দল গঠনে যে প্রক্রিয়া সেই প্রক্রিয়ায় সৈয়দ ইবরাহিম আছেন কিনা সেটি এখন একটি বড় প্রশ্ন। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, সৈয়দ

 

ইবরাহিমের এই তৎপরতা সন্দে’হজনক । এখন বিএনপির মধ্যে এক ধ’রনের হ’তাশা চলছে এই হ’তাশাকে পুঁজি করে বিএনপি ভা’ঙার একটি সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে সৈয়দ ইবরাহিম এর ভূমিকা থাকতে পারে। তবে সৈয়দ ইবরাহিম একটি নতুন রাজনীতি মেরুকরণ ঘটাতে পারবেন কিনা। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সে’না

 

ক’র্মকর্তা হিসেবে বেশ সুনাম রয়েছে । কিন্তু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার নেতৃত্ব দেওয়ার কতটুকু সক্ষ’মতা রয়েছে সেটি একটি প্রশ্ন। তাছাড়া বিএনপির বাইরে এই ধ’রনের লোকদেরকে নিয়ে বিএনপি বারবার তাকাচ্ছে বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন । কিছুদিন আগেও ডাক্তার জাফরুল্লাহর উপর নির্ভর ছিল বিএনপি । কিন্তু টিকা নিয়ে

 

সকলকে টিকা নেওয়ার আ’হ্বান জানিয়ে ডক্টর জাফরুল্লাহ সরকারের সাথে তার ব’ন্ধু সুলভ স’স্পর্ক প্র’কাশ ক’রেছেন। এখন সৈয়দ ইবরাহিম সেই একই পথে যাচ্ছেন কিনা সেটি মনে করেন বিএনপির অনেক নেতাই । বিএনপি`র স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলছেন, ডাক্তার কামাল হোসেনকে আম’রা মনে করতাম বিরো’ধী দলের

 

অন্যতম নেতা কিন্তু তিনি আমাদেরকে সরকারের প্ররোচনায় ফাঁদে ফে’লে নির্বাচনের ফাঁদে নিয়ে গেছেন। এবং সে নির্বাচনের ফলাফল কি হয়েছে তা আম’রা সবাই জানি। ডঃ কামাল হোসেনকে দিয়ে ২০১৮ নির্বাচন সরকার জায়েজ করেছিল। এখন সৈয়দ ইবরাহিমকে দিয়ে অন্য কোনও দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করছে কিনা সরকার সেটি

 

এখন দেখার বিষয়। তবে সরকার বলছে যে, বিএনপিতে ভাঙ্গন ধ’রানোর অভিপ্রায় সরকারের নেই । বিএনপি নিজে’রাই নিজেদের অর্ন্তদলীয় কোন্দল কলহে লিপ্ত এবং সেই জন্যই বিএনপি নিজে’র দোষ অন্যের ঘাড়ে চা’পানোর চেষ্টা করছে।

 

 

Check Also

ভারতের বিরো’ধিতায় সিদ্ধা’ন্ত বদলালো আইসিসি

বেশ কিছুদিন আগেই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নি’শ্চিত করেছিল যে ২০২৩-৩১ সাল পর্যন্ত টুর্নামেন্টগুলো বিডিং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *