Breaking News

হেফাজতই কি এখন প্রধান বিরোধী দল?

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ এক রাজনৈতিক শূন্যতায় ভুগছেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজনৈতিক চর্চা

কমে গেছে। বরং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভেতরে দিবসভিত্তিক রাজনীতির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

 

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ, দলের ভেতরে

অনুপ্রবেশকারীদের উৎপাত, চাটুকার, মতলববাজরা দলকে ঘিরে ফেলেছে এমন অভিযোগ আওয়ামী

 

লীগের নেতাকর্মীরাই প্রকাশ্যে উচ্চারণ করছেন। আর এরকম অবস্থায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে

দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের উত্থান এবং সেখানে আওয়ামী লীগের

 

প্রতিরোধ করার সক্ষমতার অভাব। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে এত বড় সংগঠন,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত যেভাবে তাণ্ডব চালালো, আওয়ামী লীগ কি করলো? পাশাপাশিভাবে হেফাজত

 

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে যে তাণ্ডব চালিয়েছে সেখানেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা

সেভাবে প্রতিরোধ করতে পারেনি। আর এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা যেমন ফুটে

 

উঠেছে তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠেছে। মৌলিক প্রশ্নটি হলো হেফাজতই কি

এখন দেশের প্রধান বিরোধী দল? বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছে

 

জাতীয় পার্টি। কিন্তু জাতীয় পার্টি সাংগঠনিকভাবে এতই দুর্বল এবং সংসদেও তাদের ভূমিকা আশাপ্রদ না

থাকার কারণে সাধারণ জনগণের চোখে জাতীয় পার্টি বিরোধী দল নয়। বরং জাতীয় পার্টিকে সরকারের

 

পৃষ্ঠপোষক একটি বিরোধী দল হিসেবেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এবং সাধারণ মানুষ। বিএনপি

নিজেদেরকে অন্যতম জনপ্রিয় দল দাবি করে এবং সমর্থনের বিচারে আওয়ামী লীগের পরেই বিএনপির

 

জনসমর্থন আছে বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে বিএনপি দুর্বল থেকে ক্ষীণকায় হয়ে

উঠেছে। রাজনৈতিক আন্দোলনের শক্তি যেমন দলটি হারিয়েছে তেমনি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

 

করতেও অক্ষম হয়ে গেছে। দলটির ভেতরে নানারকম অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিরোধ প্রকাশ্য হচ্ছে।

ফলে বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির মাঠে যে শক্তি এবং সামর্থ্য দেখানোর কথা সেটি বিএনপি দেখাতে

 

পারছে না। বাংলাদেশের বামদলগুলোর অবস্থাও নাজুক এবং মৃতপ্রায়। বাম দলগুলো আসলে দিকভ্রান্ত।

তারা আসলে কি চায় তারা নিজেরাও হয়তো বলতে পারছে না। এরকম একটি শূণ্যতার মধ্যেই ২০১৩ সাল

 

থেকে হেফাজতের উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতির দৃশ্যপটে একটি নতুন মেরুকরণ করছে বলে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ২০১৩ এর মে মাসে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে হেফাজত

 

তাদের শক্তি দেখিয়েছে। সেই সময় সরকার হেফাজতের সাথে একটি সমঝোতার কৌশল গ্রহণ করে এবং

সেই প্রেক্ষিতে হেফাজতের কিছু দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর

 

হেফাজতের নতুন নেতৃত্ব জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারের সাথে সমঝোতার কৌশল নিয়ে আর এগোতে

আগ্রহী নয় বলেই অনেকে মনে করছেন। বরং বাবুনগরী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক

 

বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করেছেন। সেই কৌশলের সর্বশেষ

প্রতিফলন হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করা। আর বিরোধিতা

 

করতে গিয়ে তারা সারাদেশে তাণ্ডব দেখিয়েছে। তবে এ ঘটনাই শেষ নয়। এই বিরোধিতার মধ্য দিয়ে

হেফাজত নিজেদেরকে একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। মানুষ মনে করছে যে,

 

হেফাজতই প্রধান বিরোধী দল। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিরোধীতার পরও হেফাজতের নেতারা

যেভাবে কথাবার্তা বলছেন, যেভাবে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছেন, যেভাবে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন,

 

তাতে মনে হচ্ছে যে বাংলাদেশে এখন একটি ইসলামী মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটতে যাচ্ছে এবং সেটি

হেফাজতের নেতৃত্বে। হেফাজত নানা কারণেই একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাদের রয়েছে বিপুল

পরিমাণ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। যারা তরুণ, দরিদ্র এবং মাদ্রাসার শিক্ষক অর্থাৎ হেফাজতের নেতাদের অন্ধ

 

অনুসারী। আর এই শক্তিতে ভর করেই হেফাজত একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের

রাজনীতিতে আসছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর হেফাজতের যদি রাজনৈতিক উত্থান ঘটে,

তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুস্পষ্ট মেরুকরণ দৃশ্যমান হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম স্বাধীনতা

 

বিরোধী রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে নেতৃত্ব দেবে আওয়ামী লীগ। আর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির

পক্ষে কাজ করবে হেফাজত। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ

হিসেবে হেফাজতই আবির্ভূত হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

 

 

Check Also

একসঙ্গে মা-মেয়ের বিয়ে! বিস্তারিত জানুন

একসঙ্গে মা-মেয়ের বিয়ে! কারণ জানলে আপনিও সমর্থন জানাবেন! বয়স কেবল সংখ্যামাত্র। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই কথাটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *